আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।

মঙ্গলবার বিকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুদিবাড়ি গ্রামে বাহারাম ব্যাপারী গ্রুপ ও সামসাদ প্রামাণিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।

নিহতরা হলেন- বাহারাম বেপারী গ্রুপের আব্দুল মান্নান ব্যাপারীর ছেলে রিপন ব্যাপারী (৩০) ও সামসাদ প্রামাণিক গ্রুপের আনসার আলীর ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল ইসলাম (১৫)।

আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে পুরুষ লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করায় গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে নিহত রিপনের স্ত্রী মনিরা বেগম জানান, পাশের লোহিনদাকান্দা গ্রাম থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সামসাদ গ্রুপের লোকজন তার স্বামী রিপনকে একা পেয়ে হাতুড়ি ও লোহার রড় দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

তাকে জামিরতা বাজারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তারা দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়ে তাকে ফলাবিদ্ধ করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয় অন্তত ৪-৫ জন।

অপরদিকে সামসাদ প্রামাণিক গ্রুপের পল্লী চিকিৎসক নাজিম উদ্দিন বলেন, একটি মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেড় মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এর জের ধরে রমজান মাসের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ হয়।

পরে মঙ্গলবার বিকালে তৃতীয় দফায় বাহারাম গ্রুপের লোকজন অতর্কিত আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। বাঁধা দিলে এ গ্রামের চাঁদু ও গোলামের বাড়ির সামনে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে আমাদের পক্ষের আশরাফুলসহ ৮-১০ জন আহত হয়। ফলাবিদ্ধ আশরাফুলকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষেকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ছাড়া পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামে অস্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।

এমআর