নিজেই বাবা মায়ের কবরে ফুল উপহার নিয়ে গেছে ছোট্ট মেঘ। ঈদের দিনটি খুশীর চেয়ে বাবা মায়ের কথাই তার মনে পড়েছে বেশী। নির্মম হত্যার শিকার সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরওয়ার আর মেহেরুন রুনীর একমাত্র ছেলেটির কেমন কেটেছে ঈদ?
ছোট ছোট হাত। যে হাতে মায়ের গালের গন্ধ নেবার কথা। সেই হাতেই মেঘের উপহার মা আর বাবার জন্য। ছেলের হাতে ফুল উপহার পেয়ে সাগর-রুনি হয়তো কোনদিন হেসেছিল। কিন্তু এই ঈদের দিন ছোট্ট মেঘ যে উপহার নিয়ে মা-বাবার কাছে হাজির হলো, সে উপহার আর বাবা-মায়ের নেয়া হলো না!
বাবার সাথে শেষ ঈদে দু’জনে মিলে একরকম পাঞ্জাবী পরেছিল মেঘ। আরও কতো কি! তেমন করে আর দুনিয়ার সবচেয়ে আপন যে বাবা-মা, তাদের কাছ থেকে আর কোনদিনই উপহার পাওয়া হবে না মেঘের।
সকালে মামাদের সাথে মিলিয়ে লাল পাঞ্জাবী পরে ঈদের নামাজ পড়েছে মেঘ। মেঘের ঈদের দিনটা কেটে গেছে হয়তো কোন রকম। তবে বাবা-মা না থাকার শূন্যতা তাকে ঘিরে রাখবে জীবনের পুরোটা সময়। থাকবে না মেঘের আকাশে স্নেহভরা এক খন্ড মেঘের ছায়া।
মেঘের পরিবার জানায়, মন খারাপ থাকলেও এবার ঈদে বাবার মতো একই ডিজাইনের পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য তাকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। তারপরও তার মন ভালো নেই। কোরবানির ঈদ এলেই তার বাবার সঙ্গে ঘোরাঘুরি হৈচৈ করত। কিন্তু এবার সে কারও সঙ্গে তেমন কথা বলছে না। ফোনেও কথা কম বলছে। বার বার বাবার কথা মনে করছে। নানা বাড়ি ও দাদার বাড়ি দুই স্থানেই ঈদ করবে মেঘ। বর্তমানে সে তার নানা বাড়ি রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের বাসায় আছে। ঈদের দিন সকালে দাদা বাড়ি নবাবপুরে গিয়েছে সে।
যোগাযোগ করা হলে মেঘের মামা নওশের আলী রোমান বলেন, ফোনে কথা বলতে চায় না মেঘ। অনেকটা বিরক্ত বোধও করে। আমার সঙ্গেই সময় কাটে তার। আমি বয়সে অনেক বড় হলেও অনেকটা খেলার সঙ্গীর মতো।
আরেক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন সাইয়ার নাওয়াল:
সাইয়ারা নাওয়াল বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর একমাত্র মেয়ে। বাবা জীবিত না মৃত, আদৌ তিনি ফিরবেন কি-না তাও জানে না ইলিয়াসকন্যা। ঈদের দিন সাইয়ারা নাওয়াল শুধু বাবার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
ইলিয়াস পরিবার শুক্রবার সিলেটে চলে গেছে। বিশ্বনাথে দাদার বাড়িতেই ঈদ করছে সাইয়ারা নাওয়াল। এবার ঈদে লন্ডন থেকে তার চাচা আসকির জামাকাপড় পাঠিয়েছেন। ঈদের দিন এগুলো পরেই বেরাচ্ছে সাইয়ারা। ফোনে কথা বলতে চাইলে অভিমানী সাইয়ারা কোনো কথা না বলেই কেটে দেয়। তবে বাবার জন্য সবসময় অপেক্ষায় থাকে বলে জানান তার মা তাহসিনা রুশদীর লুনা।
তিনি বলেন, সাইয়ারার মন ভালো নেই। বাবা ছাড়া ঈদ তার কাছে সত্যিই একটা দুঃস্বপ্ন। কোনো দিনই ভাবিনি আমার ছেলেমেয়েরা এত তাড়াতাড়ি নিঃসঙ্গ হবে। আমি বা আমার ছেলেমেয়েরাই শুধু নয়, শাশুড়ি মা সূর্যবান বিবি, এলাকার হাজার হাজার নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ইলিয়াস আলী ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফেরত পাই। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন।
জেএ





