ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে কক্সবাজারের চকরিয়ায় জনতা কর্তৃক আটকের পর তাদের জিম্মিদশা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সরকার দলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির দ্বিতীয় স্ত্রী সাকেরুন্নেছা সাকী ও তার অপর এক বান্ধবীকে।

পরে তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে মহিলা কনষ্টেবল দ্বারা দেহ তল্লাশি করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে কোন ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমনকি দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ধরে তারা থানায় অবস্থান করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানা থেকে রাত ১০টার দিকে ছাড়া পেয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।

এদিকে এমপি বদির স্ত্রী চকরিয়ায় আটক হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় তোলপাড় শুরু হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার শহর থেকে একে একে তিনটি যানবাহন বদলে সর্বশেষ সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সায় করে সাকেরুন্নেছা সাকী ও তার অপর এক বান্ধবী বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গাস্থ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নামেন। এর পরই তারা অপর একটি হাইয়েজে (মাইক্রোবাস) ওঠে পড়লে উৎসুক মানুষ ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে তাদের ঘিরে ধরে। পরে থানার টহল পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন মহিলা কনষ্টেবলসহ পুলিশ জনতার জিম্মিদশা থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

তবে অপর একটি সূত্র জানায়, পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর এমপি বদির স্ত্রী পরিচয় পেয়ে মহিলা কনষ্টেবলদের জন্য সংরক্ষিত রুমে তাদের বসতে দেওয়া হয়। সেখানে তারা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অবস্থান করে। এই সময়ের মধ্যে চারিদিকে প্রচার পায় এমপি বদির স্ত্রী ইয়াবাসহ চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

আরেকটি সূত্র জানায়, সাকেরুন্নেসা সাকীর কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে না পারলেও তার অপর বান্ধবীর (নাম জানা যায়নি) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এমপি বদির স্ত্রীর বান্ধবী হওয়ায় পুলিশ তা রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের কাছে গোপন করেছেন।

সূত্রটি আরও দাবি করেছেন, এমপি বদির স্ত্রী ঠিকই ইয়াবার বড় চালান পাচারের উদ্দেশে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে চকরিয়ার ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। জনতা কর্তৃক আটকের সময় ইয়াবার চালানটি তার নেটওয়ার্কে থাকা অপরাপর সদস্যরা (পুরুষ) কৌশলে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তারা ধরা পড়লেও ইয়াবা ঠিকই হাতবদল হয়ে গেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, সম্প্রতি (ঈদের সময়) দ্বিতীয় স্ত্রী সাকেরুন্নেসা সাকীকে নিয়ে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমার ঘুরে আসেন এমপি বদি। গত দুইদিন আগে তারা দেশে আসেন। দেশে আসার পর সাকী সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে চকরিয়ায় এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রী সাকী চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এমন খবর শোনার পর এমপি বদি নড়েচড়ে বসেন। তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তার স্ত্রীর ছবি যাতে কোন সাংবাদিক তুলতে না পারেন। এ কারণে রাত ১০টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের একটি নোয়া গাড়িতে তুলে দিয়ে পুলিশ প্রহরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে কিছুদূর এগিয়ে দেন।

জনতার জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি উদ্ধারকৃতদের কোন নাম-ঠিকানা পর্যন্ত টুকে নেওয়া হয়নি বলেও জানান।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, 'যে সময় তাদের জনতা কর্তৃক জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় তখন আমি চকরিয়ার বাইরে ছিলাম। রাত ১০টার দিকে আমি থানায় আসি। এরপর জানতে পারি বিষয়টি।' তবে এমপি বদির স্ত্রী ও তার বান্ধবীর কাছ থেকে কোন ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গতরাত ১২টার দিকে বলেন, 'পুলিশ তাদের আটক করেনি। জনতার জিম্মিদশা থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোন ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে কি-না তা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমি এখন থানায় যাচ্ছি।

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই