গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি কর্ণেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে অস্ত্র-আইন মামলায় আবারও পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মইনুল হাসান ইউসুফ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৭ মার্চ অস্ত্র-আইন মামলায় কাদের খানকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। একদিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তাকে হাজির করে আবারও সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান।

গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম জানান, কাদের খানের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় অস্ত্র-আইনে একটি মামলা হয়। লিটন হত্যাকাণ্ডে কিলাররা তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করে। এরমধ্যে কাদের খান তার লাইসেন্স করা একটি অস্ত্র স্বেচ্ছায় থানায় জমা দেন। এছাড়া কাদের খানের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী আরও একটি অস্ত্র তার বাড়ির উঠানের গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বাকি অস্ত্রটি উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্নভাবে অভিযান চালালেও সেটি উদ্ধার করা যায়নি। এ কারণে কাদের খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু বিচারক শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই একদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেও অস্ত্র সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, একদিনের রিমান্ড শেষে কাদের খানকে আদালতে হাজির করে আবারও সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। বুধবার বিচারক শুনানি শেষে কাদের খানের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টাপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে ১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ লিটন হত্যার ঘটনায় কাদের খাঁন, চার কিলার, তিন সহযোগী ছাড়াও ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এমই