গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হেঁটে এক এক করে ঢুকেছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিডিওতে দেখা গেছে এ সমস্ত যুবক দুজন-একজন করে হাঁটতে হাঁটতে ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকেছে। ভিডিওতে এ লোকগুলোকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে। আশপাশের ক্যামেরাগুলো একত্র করে যা দেখছি, এরা গাড়ি ব্যবহার করেনি।’
গত ১ জুলাই গুলশানের ওই ক্যাফেতে জঙ্গিরা একটি মাইক্রোবাসে করে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করেছিল বলে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছিলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছিলাম এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। কোথায় হবে, কখন হবে, কীভাবে হবে সেগুলো ছিল না।’
আগের দিন রবিবার তিনি জানিয়েছিলেন তাদের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল যে, একটা কিছু হতে যাচ্ছে, হতে পারে গুলশান এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে তৈরিও ছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা তথ্যের পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম সতর্কতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।
তবে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কারণেই পুলিশ সতর্ক ছিল দাবি করে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সেখানে চলে গিয়েছিল। পুলিশ সব জায়গায় অবস্থান করছিল।’
জঙ্গি হামলা নিয়ে ফেসবুকে যারা তথ্য দিচ্ছেন বিটিআরসি তা নজরদারি করছে কি না- এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকে যেসব তথ্য আসছে তা কোথা থেকে আসে তার সন্ধান করতে একটু সময় লাগে, সবগুলোই নজরদারিতে আছে, সবগুলোই দেখা হচ্ছে।’
বাংলাদেশে নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করে আরো জঙ্গি হামলার যে আশঙ্কার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ১ জুলাই গুলশানের ওই ক্যাফেতে জঙ্গিরা ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। তাদের মোকাবেলায় গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর জঙ্গিরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে।
প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ওই অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত এবং একজনকে আটক করা হয়।
এসএম





