বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণসহ ৬ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ন্যাশনাল টিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ (বিএনটিসি) নামের একটি সংগঠন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বদর উদ্দিন হাওলাদার বলেন, শতকরা ২-৩ ভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত সরকারি শিক্ষক-কর্মচারিরা পেনশন গ্রাচুইটিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন।
সেখানে ৯৭ ভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা পাচ্ছেন ৫০০ টাকার বাড়ি ভাড়া, ৩০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা যা তুলনামূলক খুবই সামান্য। আমাদের কোনো পদমর্যাদা নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, এর সাথে রয়েছে আবার ম্যানেজিং কমিটির দৌরাত্বা। তাদের অযোগ্যতা-অদক্ষতার শিকার হচ্ছে দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি তাদের ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো- ১. সমস্ত বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষ-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ এবং স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণাসহ চাকুরীকালীন বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করতে হবে।
২. বেসরকারী ও সরকারী শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করাসহ সরকারী অফিস, দপ্তর, পরিদপ্তর ও অধিদপ্তরসমূহে আনুপাতিক হারে ডেপুটেশন প্রদান করতে হবে।
৩. বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কার করে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পরিচালনা পদ্ধতি চালু করতে হবে।
৪. সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ও অন্যান্য প্রদেয় অর্থের পরিমাণ ও সুযোগ-সুবিধায় সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ১৯৯৬ সালের জনবল কাঠামো অনুযাযী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত করতে হবে।
৬. বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের এমপিও ভুক্ত পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির নেতারা বলেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেয়া না হলে পরবর্তীতে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান সহ পরবর্তী করণীয় কি হবে তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য-সচিব ইদ্রিস আলী, ড. দ্বীন মোহাম্মদ প্রমুখ।
এমএ/এমকে





