আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে গত কয়েক দিনে কয়েকজন আসামির মৃত্যুর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নরসিংদীতে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ছয়জন।
বুধবার সন্ধ্যার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডাকাত সন্দেহে নরসিংদীর মনোহরদীতে পিটিয়ে মারা হয়েছে দুজনকে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মধ্যে দুটি জেলায় মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেল।
এর আগে গণপিটুনির ঘটনার সময় সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিক কয়েকটি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিএনপি দাবি করে আসছে, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে তা উড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোমস্তাপুরের বোয়ালিয়া এলাকায় মোকরোমপুর সেতুর কাছে গণপিটুনিতে মারা যান চারজন।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম রব্বানী বলে জানিয়েছেন গোমস্তাপুর থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি ফিরোজ বলেন, মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের সময় একটি দলের চারজনকে ধরে পেটায় জনতা।
“মোকরোমপুর সেতুর কাছে এক মোটর সাইকেল চালকের পথরোধ করে ১০/১২ জনের একটি দল। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা দৌড়ে এসে চারজনকে ধরে পিটুনি দেয়। তখন অন্যরা পালিয়ে যায়।”
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গণপিটুনির শিকার চারজনকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে বলেন, চারজনই মারা গেছেন।
ঘটনাস্থল থেকে রামদা, হাসুয়াসহ বেশ কিছু ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনোহরদী উপজেলার চরমান্দিয়া গ্রামে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু ঘটে।
ওই গ্রামে কিছুদিন ধরে ডাকাতের উৎপাত চলছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। এরই এক পর্যায়ে এদিন ধাওয়া করে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী।
মনোহরদী থানার ওসি মাহমুদুর রহমান বলেন, “রাতে ৭/৮ জন যুবক গ্রামে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দেয়।
“এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও দুজনকে ধরে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়।”
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুজনের পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি।
ঘনঘন ডাকাতির অভিযোগ তুলে গ্রামবাসী মনোহরদী থানা ঘেরাও করে বলেও জানান তিনি।
এএইচ





