৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভার মধ্যে ২২৬টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ৮টি পৌরসভার ৭টিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন, একটি পৌরসভায় ভোট বাতিল করেছে ইসি। এছাড়া ১৯ পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র স্থাগিত থাকায় সবগুলোর তথ্য একীভূত করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে ২০৭ পৌরসভায় ভোট একীভুত করে গড়ে ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব সিরাজুল ইসলাম।
বৃস্পতিবার মাঠ পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণ এ তথ্য বের করে এসব তথ্য জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া এসব পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৯ জন। এদের মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪৪ লাখ ২ হজার ৮৩৫। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৯২৫।
নির্বাচন কমিশনে তথ্য মতে, ২০৭ পৌরসভার মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী ১৬১, বিএনপি ১৯, জাতীয় পার্টি এক, স্বতন্ত্র ২৬ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনে অনিময় ও সহিংসতার কারণে নংসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ভোট বাতিল করা হয়। বাকি ১৯ পৌরসভার কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত থাকার কারণে এসব পৌরসভার ফলাফল স্থগিত রেখেছেন। যদিও এসব পৌরতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয় হয়েছেন। তবে কমিশন সিদ্ধান্ত জানালে ইসি সচিবালয় ১৯ জনের তথ্য প্রকাশ করবে।
এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর পৌরসভার বিস্তারিত ফলাফল ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ব্রিফিং জানাবেন।’
তবে শতকরা কত শতাংশ ভোট পড়েছে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ‘এখন পযন্ত আমরা যে হিসেব করেছি। তাতে দেখা গেছে পৌরসভায় নির্বাচনে ৭৩ শতাংশের উপরে ভোট পড়েছে।তবে বাকী পৌরসভার ফলাফল হিসেবে করলে হয়ত এর একটু হের ফের হবে।
গতকাল প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দিনভর অভিযোগের মধ্য দিয়েই পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভোট শেষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে ভোট গ্রহণের দিনব্যাপি বিএনপি নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল, জালভোট, কেন্দ্রে প্রবেশে বাধাসহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নির্বাচনে কমিশনে। শেষ পযন্ত দলটি ভোটের ফলাফল বর্জন করেন।
এছাড়া সরকারের শরীক জাতীয় পার্টিও ১৭৬টি ভোটকেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের সমর্থকরদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে জাপা।
এদিকে ভোট গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করে কিছু বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
উল্লেখ্য, গতকাল ২৩৪ পৌরসভায় ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের ২৩৪, বিএনপি ২২৩ ও জাতীয় পার্টি ৯৫ প্রার্থীসহ ৯৪৫ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংরক্ষিত ও কাউন্সিলর পদে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
এমএইচ





