জাতীয় বাজেটের ৪০ শতাংশ কৃষিখাতে উন্নয়ন জন্য বরাদ্দসহ ৯ দফা দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করছে কৃষক ক্ষেত মজুর সংগ্রাম পরিষদ।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের এক পাশের রাস্তা বন্ধ করে তারা এ সমাবেশ করছে। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধানসহ অন্যান্য ফসল বিক্রির বাজার ব্যবস্থাপনা মধ্যসত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে কৃষক প্রকৃত দাম পায় না। লাভজনক দাম না পেয়ে কৃষক লোকসান গুণে নিঃস্ব হচ্ছে। শুধু তাই নয় সময়মত ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় মামলায় জড়িয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

বক্তারা জানান, সারাদেশে এক লাখ ৬৮ হাজার কৃষক সার্টিফিকেট মামলার হয়রানির শিকার। অবিলম্বে কৃষকের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

৯ দফা দাবিগুলো হলো : ১. ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা, ২.ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি শস্য ক্রয় কেন্দ্র চালু করে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান, গম, ভুট্টা, পাট ক্রয় করা ৩. কৃষি ঋণে ব্যাংকের হয়রানি বন্ধ করে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান ৪. সারাদেশে এক লাখ ৬৮ হাজার সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ৫. ভূমি অফিস ও পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রানি-দুর্নীতি বন্ধ করা ৬. ক্ষেত মজুরদের সারা বছর কাজ দেওয়া ৭. পল্লী রেশনিং চালু ৮. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করা ও লবণাক্ত রোধে ব্যবস্থা নেওয়া ৯. খাস জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে সমবায়ের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া।

এদিকে, রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করায় পল্টন, গুলিস্তান ও এর আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন।

পথচারী রফিকুল ইসলাম ব্রে‌কিংনিউজ‌কে বলেন, কৃষকরা যে দাবি জানিয়ে সমাবেশ করছে সেটি ন্যায্য। সরকারের উচিত তাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা। সরকার যদি তাদের দাবিগুলো পূরণ করত তাহলে তারা আজকে রাজপথে নামতো না। আর জনগণেরও ভোগান্তি হতো না।

সমাবেশে কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল হক, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএম