টানা চারদিনের ভারি বর্ষণের পর শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমেছে। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
শুক্রবার রাতে জেলার চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সীমান্তে শঙ্খ নদীর আশপাশের প্রায় সব গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শঙ্খ নদীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এজন্য নদীপড়ের সব গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া যেসব এলাকা পানিবন্দি আছে সেগুলোর পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি।
পানিবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষকে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসন ৫০ টন চাল এবং আট লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এসব বরাদ্দ সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, রাউজান এবং বাঁশখালীতে বন্টন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ এবং রাউজানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য সেখানে বরাদ্দগুলো পাঠানো হয়েছে। কাল (রোববার) আরও কিছু বরাদ্দ পাব। সেগুলো অন্যান্য উপজেলায় পাঠানো হবে।
চারটি উপজেলার বাইরে আরও আটটি উপজেলায় একটি-দু’টি করে গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জেলা প্রশাসক জানান।
এছাড়া বানের পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের, গৃহপালিত পশুসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তলিয়ে গেছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
এদিকে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কে যানবাহন চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যানবাহন চলছে সীমিতভাবে। বান্দরবানে গিয়ে চট্টগ্রামের অনেকে সেখানে আটকা পড়েছেন। কক্সবাজারেও আটকে আছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাজালিয়া, পূর্ব বাজালিয়া, বড় দুয়ারা, ঘিলাতলী, মাহালিয়া এলাকা পানিতে ডুবে আছে। এখানে পাহাড়ি ঢল ও শঙ্খ নদীর পানিতে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের উপর পানি বয়ে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার লোকজন বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।
এছাড়া চরতি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম পানির নিচে ডুবে আছে। এসব এলাকার সড়কগুলোও পানিতে ডুবে গেছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে এসব এলাকার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। নলুয়া ইউনিয়নের চারটি গ্রাম ও আমিলাইশ ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের লোকজনও পানিবন্দী রয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ ও সদরের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়ক ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে।
বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল, বাহারছড়া, চাম্বল, গন্ডামারা, খানখানাবাদ এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর, জুইদণ্ডী, বরুমচড়া এলাকায়ও পানি উঠেছে। তবে শঙ্খ নদী ও উপকূলীয় এলাকার লোকজন বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানা গেছে।
চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের চাগাচর দিয়াকুল, নয়াপাড়া, রায়জোয়ারা, কিল্লাপাড়া ও বৈলতলী ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে ডুবে গেছে। শঙ্খ নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় পানি বাড়ছে বলে জানা গেছে। নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে শঙ্খপাড়ের লোকজন।
পটিয়া উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের জুলধা, ডাঙ্গারচর ও বড় উঠান ইউনিয়নের বড় উঠান, দৌলতপুর ও শাহমীরপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
হাটহাজারী উপজেলার ফরহদাবাদ, ধলই, নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দন, মেখল, শিকারপুর ও আলমপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে রোববার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে চট্টগ্রামের সব উপজেলা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সেই সঙ্গে অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত অব্যাহত আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জেআই





