আগামীকাল থাইল্যান্ডের রাজধানী বাংককে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রে ভাসমান অভিবাসীদের সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচে’র পক্ষ থেকে গতকাল একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে সম্মেলনে যে ইস্যুগুলো সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সে বিষয়গুলোর একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। সমুদ্রে ভাসমান মানুষগুলোকে কোন শর্ত ছাড়াই তীরে ভিড়তে দেয়াসহ আশ্রয় প্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের সংস্থাসমূহকে অবাধে দেশগুলোর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়ার বিষয়সমূহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সরকারসমূহের চাপ প্রয়োগ করা উচিত বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, মানবিক এ ট্র্যাজেডির সমাধানকল্পে আঞ্চলিক সরকারগুলোর উচিত জাতিসংঘ এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করা। দেশগুলো বছরের পর বছর অতি গোপনে যেটা করেছে, তেমনটা হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সরকারসমূহকে নিচের ইস্যুগুলোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ:

- জরুরি ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বারোপ করুন।

- অনুসন্ধান ও উদ্ধারে সহযোগিতা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক প্রস্তাবসমূহ অংশগ্রহণকারী সরকারসমূহের গ্রহণ করা উচিত।

- সমুদ্রে অভিবাসীবোঝাই ভাসমান বাকি বোটগুলো যেগুলো এখনও সমুদ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উচিত সামুদ্রিক অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনায় সম্মত হওয়া।

- থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উচিত শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার জন্য যে বোটগুলো তীরে ভিড়বে, সেগুলো তত্ত্বাবধানে ইউএনএইচসিআর-এর রাষ্ট্রসমূহে দায়িত্ব পালনের যে ম্যান্ডেট (প্রদত্ত ক্ষমতা) রয়েছে, তা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা।

- সমস্যার মূল উৎস হিসেবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা।

- বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাতে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নীতির অবসান ঘটায় এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে।

এএইচ