বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে তাকে আদালতে হাজির করার পর রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। আদালতে শুনানির পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

এর আগে গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের নামে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটিতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে নানা বক্তব্য শোনা যায়। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অডিওটির বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, ডিএমপির গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তাকে ডেকেছে। কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদরদপ্তরের আরও দুজন কর্মকর্তা ছিলেন বলে তিনি জানান।

অডিওটির বিষয়ে অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছেন রাকিবুল হাসান। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তার নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ফলে অডিওটির প্রকৃত উৎস, কণ্ঠস্বর এবং এটি সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি কি না—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হয়ে ওঠে।

এর আগে অডিওটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছিল। ডিএমপির গঠিত কমিটিকে বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তার অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।

অডিওকে কেন্দ্র করে তাকে থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে পাঠানোর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

তবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগের বিস্তারিত, মামলাটি কোন থানায় এবং কার আবেদনের ভিত্তিতে হয়েছে—এসব বিষয়ে আদালতে উপস্থাপিত নথি ও শুনানির পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করার পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। একই সঙ্গে ভাইরাল অডিওটির সত্যতা, উৎস এবং এর সঙ্গে রাকিবুল হাসানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে কীভাবে উঠে আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে ভাইরাল অডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনাটি এখন আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও তদন্তের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

এমএম