বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। ট্যানারির মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা এতে প্রতিফলিত করা হবে।
দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে এবং এই খাতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
রফতানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আতাউর রহমান খান বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় , বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পের। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রফতানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।
দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগ রফতানি করা হয়; অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রফতানি হয়। দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনী ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এ ছাড়াও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম





