স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ৪ নম্বর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দূরদর্শী বক্তব্য প্রদান করেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের ফাঁকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও উপকূলীয় দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশেষ এই সেশনটির আয়োজন করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ ও উপকূলীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ওপর নেমে আসা মারাত্মক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, "সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কোনো সুদূরপরাহত পরিবেশগত ইস্যু নয়; এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন, জীবিকা, মৌলিক খাদ্যনিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য এক বহুমাত্রিক ও সরাসরি অস্তিত্বগত হুমকি।"

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ নিজস্ব বাসচ্যুত হয়ে জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সুস্পষ্ট বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই মানবিক বিপর্যয় এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এখনই কোনো সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনে এর ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির করুণ দায়ভার সমগ্র বিশ্বকেই বহন করতে হবে।

বিদ্যমান জলবায়ু সংকট উত্তরণে বৈঠকে বিশ্বনেতাদের সামনে কতগুলো মৌলিক ও কৌশলগত দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর অভিঘাত মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশের জন্য ঘোষিত 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিল কার্যকর করা, সহজ শর্তে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, স্থানীয় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক সবুজ প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের প্রান্তিকে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, বিশ্বনেতা, পরিবেশবিদ এবং শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি বিপন্ন দেশের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংকট উত্তরণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি সফলভাবে শেষ হয়।

এদিকে জাতিসংঘ সফর ও বৈশ্বিক এই বৈঠকের তাৎপর্যসহ জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের জলবায়ু কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমএম