সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ নেতার হাতে নির্মমভাবে এক শিক্ষার্থী জখম হওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সংশদ অধিবেশনে দেয়া এক ভাষনে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদিজাকে নির্মমভাবে কোপানোর সময় তাকে বাঁচাতে কেউ আসলো না কেন? প্রকাশ্য দিবালোকে এত মানুষের সামনে তাকে কোপানো হলো অথচ কেউ এগিয়ে আাসলো না। এভাবে সবাই বিবেকশূন্য আচরণ করলো কিভাবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা কোন রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটেনি। সবাই জানে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে কোপানো হয়েছে। কাজেই বিষয়টি রাজনৈতিক নয়।
তবে, প্রেমের প্রস্তাবে কেউ রাজি না হলেই কাউকে হত্যা করতে হবে এটা কোন ধরনের মানষিকতা-এমন প্রশ্ন তুলে এই ঘটনাকে পাশবিক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, অপরাধীকে ধরা হয়েছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। অপরাধী কোন দলের তাতে কিছু যায় আসে না।
তবে, এই ঘটনা নিয়ে দলকে জড়িয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন এটা ঠিক নয়- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনায় দলাদলি না করার আহবান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পেট্রোল দিয়ে মানুষ হত্যার রাজনীতি বিএনপি-জামায়াত এদেশে শুরু করেছে। হত্যা ও সন্ত্রাসীর রাজনীতিতে তারাই পারদর্শী।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নার্গিস বেগম খাদিজার (২৩) উপর হামলা চালায় শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলম।
এসময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপুরি কোপাতে থাকে। এতে খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রপচার করে সেলাই দেয়া হয়।
পরে তার অবস্থার অবনতি মঙ্গলবার ভোরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে আরেকদফা তার মাথায় অস্ত্রপচার করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংকাজনক।
সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খাদিজাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাবারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার পরিবারের লোকজন।
এদিকে, ঘটনার সময় হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে কড়া পুলিশী প্রহরায় প্রথমে বদরুলকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে শাহপরান থানায় নেয়া হয়।
সেখানে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। পরে পুলিশ বদরুলকে আদালতে সোপর্দ করে জবানবন্দী গ্রহণের আবেদন জানায়।
পরবর্তীতে গত বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম শারাবান তহুরা বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত জবানবন্দী গ্রহণ করেন।
পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী স্বীকারোক্তি প্রদানকালে বদরুল আদালতকে জানায়, খাদিজার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের বাড়িতে লজিং থাকাকালে তার সঙ্গে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানজানি হওয়ার পর খাদিজার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি। আমাকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে পারিবারিক চাপে খাদিজা আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। বারবার তাকে সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ দিলেও সে পাত্তা দেয়নি। গত সোমবার পরীক্ষার খবর পেয়ে আমি খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে এমসি কলেজে যাই। সেখানে গিয়ে খাদিজার সঙ্গে কথা বলে বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু খাদিজা আমাকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো রূঢ় আচরণ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে থাকা চাপাতি দিয়ে খাদিজাকে কোপাতে থাকি।
বদরুল ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এবং খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ আউশা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে।
কেবি





