লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসদ মদাতী এলাকার এডিস মামলা আসামী আবু হানিফাকে ৪ মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামী পরিবারের লোকজন এসিডদগ্ধ পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। ফলে আতংকে দিন কাটাচ্ছে এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগম ও তার পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসদ মদাতী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী সাহিদা বেগম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এসিড নিক্ষেপ করেন প্রতিবেশী জমসের আলীর পুত্র আবু হানিফা। ওই এসিড নিক্ষেপে ঝলসে যায় সাহিদার মুখ, গলা ও বুক।
এ সময় স্থানীয়রা এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে ব্র্যাক এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগমকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।
ওই ঘটনায় সাহিদা বেগমের ভাই শহিনুর রহমান বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৬, তারিখ ১৯/০১/২০১৮ইং।
কিন্তু ঘটনার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার বা ওই মামলার অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ঘটনার পর থেকে আসামী আবু হানিফার পরিবারের লোকজন বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগম জানান, আমার স্বামী বাড়িতে থাকেন না, এই সুযোগে প্রায় সময় আমাকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দেয় আবু হানিফা। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিসও হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু হানিফা ও তার শ্যালক খয়বর, ফুফাতো ভাই রশিদুল মিলে আমাকে এসিড নিক্ষেপ করেন। কিন্তু আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ ৪ মাসেও আসামীদের গ্রেফতার করছে না ও মামলার অভিযোগ পত্র আদালতে প্রেরণ করছে না। ফলে প্রতিনিয়ত আমাকে ও আমার পরিবার হুমকি দিচ্ছে আসামী পরিবারের লোকজন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বাদল হোসেন জানান, অভিযোগ পত্র তৈরী শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে দাখিল করা হবে। পাশাপাশি আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, সকল রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। শীঘ্রই অভিযোগ পত্র দাখিল করা হবে। আসামী পালতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।
নুরনবী সরকার/এসএম





