অর্থপাচারের অভিযোগে আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের (প্রিন্স মুসা) দ্বিতীয়বারের মতো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা গ-৩৫০০৮১ নম্বরের সাদা গাড়িতে করে আবারো ডজনখানেক দেহরক্ষীসহ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন প্রিন্স মুসা। তার গাড়ি বহরে রয়েছে মোট আটটি গাড়ি।
হাজির হওয়ার পরই তাকে দুদকের দ্বিতীয়তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও ডেথ ফোবিয়াসহ একাধিক রোগ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন প্রিন্স মুসা।
যেখানে তিনি ল্যাবএইডের এক চিকিৎসক (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) ও ব্যক্তিগত এক চিকিৎসকের অর্থাৎ মোট দুটি সনদ যুক্ত করে দুদককে চিঠি পাঠান।
আর ওই চিঠির অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যান, সংস্থার দুই কমিশনার, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক, একই বিভাগের পরিচালক এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বরাবর পাঠান।
প্রিন্স মুসার এমন আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, তার চাওয়া অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিন মাস পেছানো সম্ভব নয়। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
এর পরই প্রিন্স মুসাকে ২৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে আবারো চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে যে ১২ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা হিসাব দিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনেই দ্বিতীয়বারের মতো তাকে তলব করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুসাকে প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জব্দকৃত অর্থের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন প্রিন্স মুসা।
২০১৫ সালের ১৯ মে প্রিন্স মুসার কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। ওই বছরের ৭ জুন সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের।
বিবরণী অনুযায়ী, প্রিন্স মুসার মোট ১২ বিলিয়ন ডলার সুইজ ব্যাংকে আটক রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে), যা নিয়ে মুসা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দুদককে জানিয়েছেন। তবে আইনগত বাধা-নিষেধের অজুহাতে ওই যৌথ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য দুদককে দেননি মুসা।
ওই তথ্যের সূত্র ধরে গেল বছরের শেষ দিকে মুসার ওই সম্পদের অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়।
শুধু মুসা বিন শমসেরের নামে দেওয়া চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের কোনো ব্যাংকে ওই নামে কোনো হিসাব নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই।
ওই জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে মুসার স্ত্রী, সন্তানদের নামে কোনো হিসাব আছে কি না, তা জানতে আবারো চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের এ অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি।
তিন বছর পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘বিজনেস এশিয়া’ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আবারো নতুন করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।
এরপর ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক (বর্তমানে পরিচালক) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এমকে





