মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়ার মানচিত্র।

প্রতি মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও চরমুধয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজুল হক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক সৈয়দ আমিনুল হক শামীমের বাড়িও।

এ ছাড়া প্রায় ৫০বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে আছে ঐতিহ্যবাহী বীর চরমধুয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও। বিলীন হয়ে যাচ্ছে কবর স্থান, গাছপালা, রাস্তাঘাট, বহু আবাদি জমিসহ বিভন্ন স্থাপনা।

এ বর্ষায় মেঘনা নদীর পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের পুরো চিত্র চোখে ভাসে নদীর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কুয়াটি দেখলে। কারণ এই কুয়া থেকে এক সময় গ্রামের মানুষ পানি তুলে ব্যবহার করত।

মেঘনার করাল গ্রাসে সহায় সম্পদ হারিয়ে অন্তত শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নদীর তীরবর্তী মানুষ ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নরসিংদীর-১ আসনের সাংসদ পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হীরুর কাছে দাবি জানিয়েছেন।

বীর চরমুধয়া গ্রামের বাসিন্দা কাজী বাহাউদ্দিন জীবন জানান, তাদের অনেক জমি ছিল। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে তার প্রায় সব বিলীন হয়ে গেছে। নদীর ভাঙন এখন তাদের বসতবাড়ির কাছে এসে গেছে। ভয় লাগে কখন যে নদী তাদের বসতবাড়িও কেড়ে নেয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত আশেয়া সিদ্দিকী জানান, চরমধুয়া তার জন্মভূমি। মেঘনার ভাঙনে পৈত্রিক ভিটাটুকু চলে গেছে। এখন বাকি তার মায়ের কবরটি। তাও নদী গ্রাস করার পথে। তিনি মায়ের কবরটি রক্ষার জন্য গ্রামবাসীকে নিয়ে বাঁশের বাধ দিয়ে ভাঙনরোধ করতে ঢাকা থেকে ছুটে আসছেন।

চরমধুয়া নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমার রানা বলেন, বিগত দুই যুগ ধরে এ চরমধুয়ায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কোনো প্রদক্ষেপ না নেয় তা হলে মানচিত্র থেকে চরমধুয়া নামটি একদিন মুছে যাবে।

চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম শিকদার বলেন, মেঘনা নদীর যে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে তা রক্ষায় এ মুহূর্তে জরুরিভিত্তিতে মেঘনার পাড়ে বেড়িবাঁধ নিমার্ণ করা প্রয়োজন। তা না হলে মানচিত্র থেকে ঐতিবাহী এ চরমধুয়া গ্রামটি হারিয়ে যাবে।

ইআর