বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি সেলিম উদ্দীন বলেছেন, সরকার নেতৃত্বশুন্য করে দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানানোর জন্যই হত্যা ও জিঘাংসার পথ বেছে নিয়েছে। তারা বিচারের নামে প্রহসন করে ইতোমধ্যেই ৪ বরেণ্য জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সে ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকেও দন্ডিত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সে ষড়যন্ত্র জনগণ কখনোই সফল ও সার্থক হতে দেবে না।
তিনি সরকারকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পরিহার করে মীর কাসেম আলীর দন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় দেশপ্রেমী জনতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি আজ রাজধানীর বাড্ডায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে দন্ডিত করার তাৎক্ষণিত প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি বাড্ডার প্রধান সড়ক থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তেজগাও থানা আমীর সালাহ উদ্দিন ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা জামিল মাহমুদ প্রমূখ।
সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতসহ বিরোধী দল নির্মূলের জন্যই নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। তারা নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যা চালিয়ে দায়ভার চাপাচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর।
সরকারের গুম ও অপহরণের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিষ্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এবং সাবেক আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে আব্দুলাহিল আমান আযমীকে অপহরণ করে গুম করে রাখা হয়েছে।
কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ও গুম অপরহরণ করে জনতার রুদ্ররোষ থেকে অতীতে কেউ বাঁচাতে পারেনি আর কখনো পারবেও না। তিনি সরকারকে হঠকারি রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ্যধারার রাজনীতিতে ফিরে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় ইতিহাস তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবে না।
.jpg)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেছেন, সরকার দেশকে বিরাজনীতিকরণের নীল নকসার অংশ হিসাবেই মীর কাসেম আলীকে পরিকল্পিতভাবে দন্ডিত করেছে। কিন্তু জনগণ সরকার ও প্রসিকিউশনের যৌথ প্রযোজনায় প্রহসনের দন্ডাদেশ কখনোই মেনে নেব না বরং সরকারের যেকোন ষড়যন্ত্র ইসলামপ্রিয় জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে।
তিনি সরকারকে গণবিরোধীতা পরিহার করে অবিলম্বে মীর কাসেম আলীর দন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে দন্ডিত করার তাৎক্ষণিত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি জোন আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি গ্রীনরোড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন তালুকদার ও আব্দুল বারী আকন্দ, শিবিরের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সাদমান সালেক, ঢাকা কলেজ সভাপতি মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা আব্দুল হান্নান, ফরিদ হোসাইন, এ্যাডভোকেট আজহার মুন্সী ও আবু নাঈম, ছাত্রনেতা জোবায়ের হোসাইন, আবু নাহিদ, আব্দুল ওয়াহিদ, কামাল উদ্দীন, মোখলেছুর রহমান, মামুন ও সাকিব প্রমূখ।

পল্টন-মতিঝিল জোন:
মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল জোনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি রামপুরা টিভি কেন্দ্রের সামনে থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য কামাল হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা সিয়াম রেজা ও সোহেল রানা মিঠু প্রমূখ।
লালবাগ জোন:
দন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে মীর কাসেম আলীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর লালবাগ জোনের উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাবুবাজার থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য আজমল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আবু আব্দুল্লাহ ও মাহমুদুল হাসান প্রমূখ।
এমবি





