‘বিশ্ব মানব হবি যদি-কায়মনে বাঙালি হও’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবারের ন্যায় এবারও যৌথভাবে বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৮ উদযাপন করবে এপার বাংলা-ওপার বাংলা। সে লক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই বাংলার দুই পৌরসভা।

ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে দুই বাংলার ২১ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে। এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে বেনাপোল আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে শার্শা উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা সরদার অলোক, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন বাবলু, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, দফতর সম্পাদক আজিবর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক বকুল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কোরবান আলী, মহিলা লীগের সভাপতি খতিব আমেনা,  উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা বিপুল, আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক ফোরাম’র সভাপতি রহমত আলী, পুটখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল গফফার সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা ওবাইদুর রহমান ,নাজিম উদ্দিন, আব্দুল হাই, জাকির হোসেন প্রমুখ।

পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, বাঙালি জাতি সভ্য, বীর, সুশৃঙ্খল ও ত্যাগী জাতি। যারা তাদের রক্ত দিয়ে নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করেছে। তাই এবার ২১ উদযাপনের শ্লোগান হবে ‘বিশ্ব মানব হবি যদি- কায়মনে বাঙালি হও’। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম বাংলার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও পৌরসভার মিলনায়তনে এ শ্লোগানের কথা তুললে পশ্চিম বাংলার খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ সকলে সর্বসম্মতি ক্রমে সমর্থন করেন বলে তিনি জানান।

মেয়র বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার মানুষ বেনাপোল নোম্যন্সল্যান্ডে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করবে। এপারের রক্ত ওপারে যাবে আর ওপারের রক্ত এপারে আসবে। এবারের ২১ দুই বাংলায় উদযাপন হবে অত্যন্ত জাঁকজমক ভাবে। দুই বাংলার ২ কিলোমিটার সাজবে বর্ণাঢ্য সাজে। উভয় দেশের বাঙালিরা শহীদ বেদীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে একই মঞ্চে আলোচনা সভায় অংশ নিবে।

দুই বাংলার জাতীয় পর্যায়ের নেতাসহ ভাষা সৈনিক ও গুণী শিল্পীরা উপস্থিত থাকবে ২১ এর মঞ্চে। ওইদিন দুই বাংলার ২১ উদযাপনকারী দশ হাজার মানুষের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। যার সিংহ ভাগ (সাত হাজার) প্যাকেট এপার বাংলার মানুষ পাবে।

নাছির /এসএম