পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার কার্তিকপাশা গ্রামে জামাল সিকদারকে (৪৮) জবাই করে হত্যার একমাস পর নিহতের স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকের পর বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে লেবুখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কেয়ারটেকার ও মেয়ে মারিয়ার প্রেমিক আবদুল মতিন ও চরবয়রা গ্রাম থেকে দুলাল নামে আরো ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তাদের আটকের কারণে জামাল হত্যার ক্লু উদঘাটন হতে চলছে। তবে মূল কিলাররা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় বাদীসহ তার পরিবার শঙ্কিত।
১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে জামাল কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে। পরদিন ২০ এপ্রিল সকালে তার বাড়ির পিছন থেকে লাশ উদ্ধার করে দুমকি থানা পুলিশ। এরপর থেকে জামাল হত্যার বিচার দাবিতে এলাকার মানুষ সভা-সমাবেশসহ নানা আন্দোলন করে আসছিল।
হত্যার মোটিভ খুঁজতে নিহত জামালের মোবাইল কললিস্ট ধরে তদন্ত করতে গিয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে চিহ্নিত করে পুলিশ।
দুমকি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, মায়ের পরকীয়া আর মেয়ের প্রেমে বাধা দেওয়ায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ জন ভাড়াটে কিলার এনে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে স্ত্রী লাকি আক্তার ও বড় মেয়ে মারিয়া আক্তার। ভাড়াটে খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে নিহত জামালের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, জামাল তিন বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো ছিলেন। জামালের তিন মেয়ে। তার বৃদ্ধ মা ছেলের ছবি বুকে চেপে হত্যার বিচার দাবি করে বারবার বিলাপ যাচ্ছিলেন।
কার্তিকপাশার সমাজপতি মাওলানা ইউসুফ আলী বলেন, জামালের সাথে তার স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়া ও মারামারি লেগে থাকত। এর রেশ ধরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তার ধারণা।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জামাল চাকরিরত অবস্থায় সিলেটে একটি বাড়ি করে। বাড়ির মালিকানা ছিল তার স্ত্রী লাকির নামে। অবসরে যাওয়ার পর মালিকানা পরিবর্তন করে জামাল নিজের নামে বাড়িটি নিয়ে নেয়। এছাড়াও ভাবীর পরকীয়া আর মেয়ের প্রেমের ঘটনা নিয়ে প্রায়ই পরিবারে মারামারি হতো। এইসব নিয়েই জামাল খুন হয়েছে।
কেএইচ





