ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মফিজুর রহমানকে স্থায়ী বরখাস্ত করেছে দুর্নীতি দমন কশিশন (দুদক)। এর আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মফিজুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়।

জানায়, ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ডিবি পুলিশের হাতে  গ্রেফতার হন দুদকের কর্মকর্তা মফিজুর রহমান।

একই্ সঙ্গে তার কাছ থেকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যবহৃত আটটি  মোবাইল সদৃশ ঘড়ি ও একটি চার্জার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর রাজধানীর শাহাবাগ থানায় মামলাটি (মামলা নং-৩৯) দায়ের করে।

ওই ঘটনায় দুদক ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এ সব কার্যকলাপের জন্য দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ২ (ঝ) বিধির অপরাধে ৩৯ (খ) ও (ছ) বিধিমতে ‘অসদাচরণ’ ও ‘প্রতারণা’র অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এদিকে  ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারিত মুহাম্মদ মফিজুর রহমান কমিশনে তার জবাব দাখিল করেন।

তার জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিশনের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ ও ‘প্রতারণা’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মফিজুর রহমানের লিখিত জবাব এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৪০ (১) (খ) (৫) বিধি মতে তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্ত’ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত মতে ওই দন্ডতার ওপর কেন আরোপ করা হবে না তার কারণ লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়।

 ২০১৩ সালের ৮  সেপ্টেম্বর তারিখে দেওয়া জবাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডাতে তিনি ব্যর্থ হন এবং তার দন্ড বহাল রাখার সিদ্ধাস্ত গৃহীত হয়।

ওই সিদ্ধাস্ত মোতাবেক কমিশন ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারী মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে এ দন্ড কার্যকর হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

একে/এসএইচ