রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার একাংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ ফ্লাইওভারের এ অংশ চালুর ফলে মগবাজারের যানজট এখনই শেষ হয়ে যাবে এমন নয় বিষয়টি। যানজট নিরসেনর জন্য পুরো ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শেষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ২০১৭ সালে মধ্যে পুরো ফ্লাইওভারের বাকি কাজ শেষ হবে।’

এর আগে গত ৩০ মার্চ এ ফ্লাইওভারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লাইওভারের ওই একাংশটি উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ তিন ভাগে ভাগ করা হচ্ছে- একটি অংশে রয়েছে সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত, আরেকটি অংশে রয়েছে শান্তিনগর-মালিবাগ-রাজারবাগ পর্যন্ত, শেষ অংশটি বাংলামোটর-মগবাজার-মৌচাক পর্যন্ত।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১১ সালের ৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে এ ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ২১৯ কোটি টাকা। প্রথমে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলে পরে মেয়াদ দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। সংস্থা দুটির ৫৭২ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৭৭৬ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ২০০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের কাজ করছে ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্সনাভানাজেভি এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোরমেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

এম এ