নড়াইলের নড়াগাতি থানা ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ শেখকে (২০) পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মামলা নেয়নি থানা পুলিশ।

আহত ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ জানান, হামলা কারিরা নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি গ্রুপের নেতা-কর্মী হওয়ায় মামলা নেয়নি নড়াগাতি থানা পুলিশ।

প্রথম বার ওসি বলেছে, মামলা নিতে এমপির নিষেধ রয়েছে। আবার দ্বিতীয় বার বলছে, কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম রহমানের নাম এজাহার থেকে বাদ দিতে হবে।

অভিযোগ দায়েরের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ওসি মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর শোকসভা পন্ড করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজ্জাদের ওপর প্রতিপক্ষ দলীয় নেতা কর্মীরা হামলা করে।

প্রসঙ্গত,নড়াইলে আওয়ামী লীগ দু’টি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি মুক্তি। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আ’লীগ সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস,সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু ও নড়াগাতি থানা আ’লীগ সভাপতি মফিজুল হক।

জানা যায়,গত ২৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শোক সভার আয়োজন করে নড়াগাতি থানা আ’লীগ। অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ গ্রুপের আয়োজিত এই শোকসভা পন্ড করার জন্য এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম রহমান ওসি অপচেষ্টা চালায়।

নড়াগাতি থানার জয়নগর ইউপি’র ১ নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ সভাপতি সাজ্জাদ শেখ একটি বড় মিছিলসহকারে সভায় সরব অংশগ্রহণ করে। এতে এমপি গ্রæপের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। ১ সেপ্টেম্বর সাজ্জাদ বড়দিয়া হাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম রহমান ওসি ও তার লোকজন তাকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে ।

গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসাপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন সাজ্জাদ। এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর সাজ্জাদের নিকট আত্মীয় নাজিউর রহমান চৌধুরী ওরফে জাহান আলী উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৯ জনকে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করলেও অদ্যাবধি ওসি অভিযোগ রেকর্ড করেননি।

এদিকে, অদৃশ্য কারণে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আসামীদের বাঁচাতে নড়াগাতি থানার ওসি আব্দুল জলিল গত ১২ সেপ্টেম্বর নিজেই থানায় ৩২৯ নম্বর একটি জিডি এন্ট্রি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নড়াগাতি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) বলেন,‘উপজেলা চেয়ারম্যাকে বাদ দিয়ে পুনরায় অভিযোগ করলে মামলা রেকর্ড করা হবে।’

এসএইচ