সাম্প্রতিক সময়ে গুম হওয়া সকল ব্যক্তিকে ঈদের আগেই ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান।
গুম হওয়া ৮ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। গুম হওয়া ৮ ব্যক্তি হলেন- ঢাকা মহানগর বিএনপির ৩৮ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন, তার খালাত ভাই জাহিদুল করিম তানভীর, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জন্টু, পুর্ব নাখাল পাড়ার আব্দুল কাদের ভূইয়া মাসুম, পশ্চিম নাখাল পাড়ার মাজহারুল ইসলাম রাসেল, মুগদার আসাদুজ্জামান, উত্তর বাড্ডা এলাকার আল-আমিন ও শাহীনবাগের এএম আদনান চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নিঁখোজ ব্যক্তিদের সন্ধান দাবিতে বিএনপি তেমন কোন ভূমিকা রাখেনি। তাই সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করতে হবে।
তিনি বলেন-র্যা ব কোন এলিট ফোর্স নয়। এটা কিলার ফোর্স। এখানে পুলিশ, আনসারসহ সব বাহিনীর সদস্য আছে। আর এলিট ফোর্স শুধুমাত্র এলিট শ্রেণীর নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন-গাজায় ৮০০ লোককে হত্যা করার কারণে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অথচ বাংলাদেশে একটা বাহিনী ৮০০ লোক মেরে ফেলেছে। কিন্তু কোন প্রতিবাদ হচ্ছে না।
তিনি বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে র্যা০ব বিলুপ্ত করতে হবে এমন অঙ্গিকার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, গুম হওয়া সদস্যদের পরিবারের দু:খ আপনার বোঝার কথা। ঈদের উপহার হিসেবে ৮ ব্যক্তিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান দাবিতে নাগরিক সমাজ ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন করবে বলে ঘোষণা দেন এই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
সংহতি প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি শাহদীন মালিক বলেন-এত কিছুর পরও অনেকেই র্যাশবের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা আর কত অসভ্য-বর্বর হব। দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও একটা বাহিনী বিনা বিচারে ৮০০ লোককে হত্যা করল। তারা আইনকে বিশ্বাস করে না।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন-প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন আমাদের দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবেন। এর মানে দেশে আইনের শাসন কায়েম হতে হবে। এখন যদি গুম-খুনের বিচার না হয় তবে ৩০-৪০ বছর পরে এর বিচার হবে। তখন জড়িত সকলের বিচার হবে। র্যাকবে কর্মরত কাউকে শান্তি মিশনের নিয়োগ না দেয়ার জন্য বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ড. শাহদীন মালিক।
ঢাকা, ২৬ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





