বগুড়ার সরকারি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে কোলে ফিরে পেয়ে প্রসূতি মা হোসনে আরার মুখে হাসি ফুটেছে। সন্তানকে কোলে ফিরে পেয়ে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। চুরি হওয়ার প্রায় ৩০ ঘন্টা পর উদ্ধার হয়েছে এ নবজাতক।
রোববার (২এপ্রিল) বিকালে পুলিশ বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি থাকা মা এবং বাবার কাছে হস্তান্তর করে।
বগুড়ার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের রমজান আলী নামের এক ব্যক্তি চুরি হওয়া শিশুর মতোই একটি শিশু দেখতে পেয়ে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি থানা পুলিশে খবর দিলে অভিযান শুরু হয়।
ধুনট থানার এসআই খোকন কুন্ডুসহ সঙ্গীয় ফোর্স প্রথমে কাজিপুরের ঢেকুরিয়া গ্রামে এবং পরে সেখান থেকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানের খবর পেয়ে মাঝবাড়ি গ্রামের নিঃসন্তান ফুল মিয়া ও লাবনী আকতার চুরি হওয়া শিশুটি ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে শিশুটি উদ্ধার করে বিকালে তার মা’ বাবার কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি জানান, বগুড়া সদরের বারপুর এলাকার রত্না বেগম নামের এক নারী শিশুটি চুরি করে নিয়ে যায়। রত্না বেগমের শ্বশুড়বাড়ি গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে চুরির পর বিক্রি করে থাকতে পারে। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে।
শিশুর বাবা রুবেল হোসেন জানান, দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিশুটি জন্ম নেয়ার পর আমরা খুবই খুশি ছিলাম। কিন্তু সন্তান চুরি হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছিল। এখন আবার সবাই আনন্দ করছে। তার মা নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সে আবার হাসছে। পুলিশ ও সংবাদপত্রের কারণে সন্তানকে ফেরত পেলাম বলে জানান রুবেল হোসেন।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিধান চন্দ্র মজুমদার জানান, চুরি হওয়া শিশু উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রসূতি ও শিশুটি সুস্থ রয়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সন্তান প্রসবের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ৩৫ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় । পর দিন ২৯ মার্চ একটি ফুটফুটে ছেলে শিশু জন্ম গ্রহণ করে। এরপর ১ এপ্রিল সকাল ৯টার সময় প্রসূতি হোসনে আরার মা রেহেনা বেগম মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের পাশেই শিশুকে রোদে রাখেন। এসময় রত্মা বেগম নামের অপরিচিত মহিলা নবজাতকের নানী রেহেনো বেগমকে কৌশলে কাপড় আনতে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান।
এমই





