বাংলাদেশের টেস্ট জয় করার আনন্দ তো রয়েছেই। এর সঙ্গে মিরপুর টেস্টে নাটোরের ছেলে তাইজুল ইসলামের অসাধারণ কৃতিত্ব- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার তাইজুলকে নিয়ে তাই নাটোরবাসী ভাসছে আনন্দের জোয়ার।

সোমবার তাইজুলের দেশসেরা বোলিংয়ে (কোনো টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনা সোমবারের। আর মঙ্গলবার তাইজুলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের আনন্দে নাটোরে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ উৎসব করেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

 সকালে শহরের বঙ্গজ্জ্বল এলাকায় তাইজুলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহারাজা জগদীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এর আগে নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকার লোকজন উত্তর চৌকিরপাড়ে তাইজুলের নিজ বাড়িতে তার বাবা-মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্কুলের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

দরিদ্রতাকে জয় করে একদিন বিশ্ব দরবারে নাম প্রতিষ্ঠা পাবে- এমন স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছিলেন তাইজুল। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ বছর বয়সে ২০০৩-০৪ সালে নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন তিনি। মিরপুর টেস্টে কোণঠাসা জিম্বাবুয়ে যখন ঘুরে দাঁড়িয়ে উল্টো জয় ছিনিয়ে নেয়ার পথে, ঠিক তখনই ব্যাট হাতেও বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাইজুল। বাংলাদেশ জয় পাওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছে নাটোরবাসী। আর এই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে তাইজুল ইসলাম।

নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুলের মতে, ‘এ জয়ে আমরা অত্যন্ত খুশী। তাইজুলের কৃতিত্ব কেবল নাটোর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য পরম পাওয়া। তাইজুলের জন্য আমাদের অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।’

নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনেন রায় বলেছেন, ‘দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে নিজ অধ্যবসায়ে তাইজুল আজ সাফল্য লাভ করেছে। আমরা তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।’

তাইজুলের বাবা ইস্কান্দার আলী বলেছেন, ‘আমার ছেলে সকলের দোয়া আর ভালবাসায় আজ এ পর্যন্ত এসেছে। তাইজুলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’

ছেলের সাফল্যের আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাইজুলের মা তাসলিমা বেগম। আনন্দের অশ্রুতে সিক্ত চোখ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অর্থ সংকটে ছেলেকে একটা ভাল ব্যাট কিনে দিতে পারিনি কোনো দিন। নিজের চেষ্টা আর উদ্যোমে আজ ও এ পর্যন্ত এসেছে।’ ছেলের জন্য সকলের দোয়া চেয়েছেন তাসলিমা বেগম।

জেআই