পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি-সম্পর্কিত অফশোর কোম্পানি ও ব্যক্তির নাম অনলাইনে প্রকাশ শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার মধ্যরাতে দুই লাখের বেশি কোম্পানি ও ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজে।

অফশোরলিকস ডট আইসিআইজে ডট ওআরজি—এ ওয়েবসাইটে গ্রিনিচ মান সময় গতকাল ১৮টার সময় ফাঁস হওয়া তথ্য-উপাত্ত উন্মুক্ত করা হয় সর্বসাধারণের জন্য। ওই ওয়েব ঠিকানায় বাংলাদেশ লিখে খোঁজ করে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি এ-সম্পর্কিত মূল নথিও।

আইসিআইজের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাক ফনসেকার নথিতে বিশ্বের ২০০টি দেশের ২ লাখ ১৪ হাজার ব্যক্তির টাকা পাচারের নথি আছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে ১৪০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাজনীতিকের নাম রয়েছে। এসব ব্যক্তি বিশ্বের ২১টি কর রেয়াত পাওয়া অঞ্চলে পাঠানো টাকায় গড়ে তুলেছেন তথাকথিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, বিশ্বের ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে অফশোর কোম্পানি খুলে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁসের খবর পাওয়া যায় গত ৪ এপ্রিল। এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

মোসাক ফনসেকার ওই নথি থেকে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের ৭০ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বা তাঁদের স্বজনেরা কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করেছেন দেশের বাইরে। শুধু রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানেরাই নন, বিনোদন বা খেলাধুলার জগতের মহাতারকা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক এমনকি দাগি অপরাধীরাও একইভাবে অর্থ পাচার করেছেন।

কয়েক দিন আগে ওই নথি ফাঁসকারী নিজেকে ‘জন ডো’ নামে পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। তিনি কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠান কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে এ কাজ করেননি বলে জানান। সূত্র: বিবিসি

ইআর