কবি আল-মাহমুদ বলেছেন, তার কবিতা ও গান আমাদের হৃদয়কে আন্দোলিত করে, শরীরকে করে শিহরিত। তিনি যে শুধু মনে প্রাণে কবি ছিলেন তা নয়, তার কবিতা ও গানে ছিল সাক্ষাৎ বিদ্রোহ।
সাহিত্যের যে অন্তরাত্মা তা আমরা কাজী নজরুলের কবিতা ও গানে তার সুন্দর প্রতিফলন দেখতে পাই্।
বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সৃজনশীল সংগঠন 'নবধারা' জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬ তম জন্ম বার্ষীকি উপলক্ষে নজরুল স্বরনোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
কবি আল-মাহমুদ বলেন, তার অপরূপ প্রতিভা, গীতিময়তা যেভাবে বিস্তার করেছিলেন তার সমকালিন সময়ে আর কেউ করতে সক্ষম হননি। তার দখল শুধুমাত্র কবিতা বা গদ্যে নয়, গানেও রয়েছে তার বিশাল এক ভাণ্ডার, এক্ষেত্রে তিনি রবিন্দ্রনাথকে ছাড়িয়ে গেছেন। নজরুলের মত সাহিত্যে এমন সম্মিলন অন্য কারো ক্ষেত্রে খুজে পাওয়া দুষ্কর।
নজরুল আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি সকল মানুষের হৃদয়ে বেচে আছেন, যুবকরা এক্ষেত্রে তাকে ধারণ করতে মাথায় বাবরি চুলও রাখেন।
কবি আল-মুজাহিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম বাহারি, নজরুল সংগীত শিল্পী সালাহ উদ্দিন, সোলায়মান আহসান, নাট্যকার আহসান হবিব প্রমূখ।
দলীয় সংগীত পরিবেশনও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর আলোচনার মাঝে মাঝে শিল্পীদের দলীয় পরিবেশনা স্বরনোৎসবকে আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। কখনো দুর্গমগীরি... কখনো বা বল বীর, বল উন্নত মম শির...।
সভাপতির বক্তব্যে কবি আল-মুজাহিদি বলেন, আজ আমাদের জাতীয় কবিকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীতকে অনুপস্থিত রাখা হয়, কারণ হিসেবে আয়োজকরা বলেন, নজরুল সংগীতের নাকি স্পন্সর পাওয়া যায় না।
তার কবিতাও গানে মানুষের মনের ভাষাও ভাব যেমনি ভাবে প্রকাশ পেয়েছে, অন্য কোন কবি সাহিত্যিকের কবিতাও গানে এমন ভাষাও ভাব প্রকাশ পায়নি।
যারা আজ মানবতার বুলি ঝেড়ে সাম্রাজ্য বিস্তারে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধেই নজরুলের কবিতা। নজরুলই একমাত্র কবি, যে বৃটিশ বেনিয়াদের শাসনের মসনদে পদাঘাত করে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।
এশিয়ান ইউনিভার সিটির অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, নজরুল নিজেই একজন খ্যাতিমান কবি। কবিতাও গদ্যের পাশাপাশি গানেও রয়েছে তার বিশাল ভাণ্ডার। তিনি ছিলেন প্রেমের কবি, যৌবনের কবি, ধ্যানের কবি।
বাংলা সাহিত্যে নজরুলের যখন আর্বিভাব তখন রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের জয় জয়কার অবস্থা। এমনই সময় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্ধ নজরুলের সাহিত্যকে সাদরে গ্রহণ করলেন।
আর বাংলা সাহিত্যে নজরুল উম্মোচন করলেন এক নতুন দিগন্ত। আমাদের এই বাংলায় মুসলিম শাসনামলে দীর্ঘ দিন ব্যবহার হয়ে আসা উর্দু-ফার্সি যে সাহিত্যে অবস্থান হারাতে বসেছিল, শুধুমাত্র মানুষের মূখেই কিছু কিছু শব্দ ব্যবহার বিদ্যমান ছিল, নজরুল এসেই সে উর্দু-ফার্সির যথার্থ ব্যবহার করে সাহিত্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন। যার বিরোধীতা করেছিল রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে। তিনি বাংলা সাহিত্যে উর্দু-ফার্সির ব্যবহারকে মেনে নিতে পারেনি।
নজরুল সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য গান, কবিতাও গদ্য লিখেছেন। তাই আজ সময় এসেছে তার কবিতা ও গানকে হাতিয়ার করে সকল অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর।
এমএ/এএইচ





