বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহার কক্ষে ডেকে নিয়েই পেটানো হয় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে।

আবরারের অবস্থান শনাক্ত করেন অমিতই। আবরার হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অমিতের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

অমিত সাহা বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয় বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক। আবরার হত্যাকান্ডের পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি।

আবরার ফাহাদ হলে আছেন কিনা সে বিষয়ে প্রথম খোঁজ নিয়েছিলেন অমিত সাহা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে “আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা” মেসেজ দেন।

মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শের-ই বাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতারা আবরারকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ২০১১ নম্বর কক্ষে এনে তাকে লাঠি, চাপাতি ও স্ট্যাম্প দিয়ে পেটায়।

অমিত এই ঘটনায় জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাকে আবরার হত্যা মামলার আসামি করা হয়নি। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা। অমিতকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছিল উপর মহল থেকে।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন, অমিত সাহা আবরার হত্যা অংশ নিয়েছে কিন্তু এজাহারে তার নাম নেই। পুলিশের তৈরি করা এজাহারে আমার সাক্ষর নেয়া হয়েছে।

এদিকে, আবরার হত্যায় অমিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অভিযোগ করে তার বিচার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় আজ (১০ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এনিয়ে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

অমিত সাহাকে আটকের নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম।

আবরারকে খুন করা হয় ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে। ওই কক্ষের বাসিন্দা অমিত সাহা। মামলার এজাহারে তার নাম না থাকা নিয়ে দেশজুড়ে চলছিল বিতর্ক। সবশেষ এতে নতুন করে মাত্রা যোগ করে খোদ অমিত সাহারই একটি মেসেজ। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

হত্যাকাণ্ডের আগে ১৭তম ব্যাচের (ফাহাদের সহপাঠী) এক শিক্ষার্থীকে অমিত সাহা ম্যাসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করেছেন, আবরার ফাহাদ কি হলে আছে? এই ধরনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তারই এক সিনিয়র এ বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত রোববার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এমবি