চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত ট্যানারিসহ চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে।ফলে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।
কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু তাহের চৌধুরী সাদ্দাম বলেন, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের সভাপতি চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ট্যানারিগুলো লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবে ৬০-৬৫ টাকায়, মহিষের চামড়া ৩৫-৪০, খাসির চামড়া ৩০-৩৫ ও বকরির চামড়া ২৫-৩০ টাকায়।
এটা ঢাকার দামের তিন ভাগের এক ভাগ বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান তারা। কারণ হিসেবে আবু তাহের চৌধুরী সাদ্দাম বলেন, চট্টগ্রামে মাত্র দুটি ট্যানারি আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
এই দুটির মধ্যে আবার একটি, মদিনা ট্যানারি, বেশি চামড়া সংগ্রহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। কারণ হিসেবে মদিনা ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু আহমেদ বলেন, পরিবেশবান্ধব ট্যানারি করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। সেটা না থাকায় বেশি চামড়া কিনলে তারা তা প্রক্রিয়াজাত করতে পারবেন না বলে জানান।
জানা যায়, চট্টগ্রামে একসময় ১৯টি ট্যানারি ছিল। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের কড়াকাড়িসহ নানা কারণে সেসব ট্যানারি বন্ধ হয়ে বর্তমানে রিফ লেদার লিমিটেড ও মদিনা ট্যানারি নামে দুটি ট্যানারি চালু রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে দেড় শতাধিক আড়তদার ও পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেন তারা। নগরীর আতুরার ডিপো, চাক্তাই, দেওয়ানহাট এলাকায় অসংখ্য চামড়ার গুদাম রয়েছে। সংগৃহীত কাঁচা চামড়া পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে গুদামজাত করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মুসলিম খান বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রতিদিন গরু, মহিষ ও ছাগলের প্রায় ৪ হাজার পিস চামড়া বিক্রি হয়ে থাকে।
এ ছাড়া কোরবানির সময় গরু ও ছাগল মিলে প্রায় ৬ লাখ পিস চামড়া বিক্রি হয়। এই চামড়া বিক্রির একমাত্র জায়গা ঢাকার ট্যানারি। ফলে তারা তাদের মর্জিমতো দাম নির্ধারণ করে। তাদের ওপরই এখানকার বাজারের উত্থান-পতন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
কেএ





