গোপালগঞ্জের রামদিয়া বাজারে ‘ব্লু-হোয়েলের’ আসক্তির কারণে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে। নিহতের নাম রাফিকুল ইসলাম পার্থ (১৬)। সে রাতইল নায়েবুন্নেছা ইনস্টিটিউটের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।

আজ (সোমবার) বিকেল ৪টার দিকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফিকুল ইসলাম পার্থ কাশিয়ানী উপজেলার চাপ্তা গ্রামের আবুল হোসেন তালুকদারের ছেলে। পার্থ রামদিয়া বাজারে বড় ভাই সৌরভ তালুকদারের বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো।

ভাই সৌরভ তালুকদার বলেন, “আমি দুপুরে বাসায় বাজার দিতে এসে দেখি রুমের দরজা বন্ধ। পরে লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে পার্থকে ঝুলে থাকতে দেখি।”

তিনি আরও বলেন, তার বাম হাতে তিমি মাছের ছবি এবং এফ-৫৭ ব্লেড দিয়ে কেটে লেখা রয়েছে। এছাড়া ডায়রিতে রক্ত দিয়ে এফডব্লিউ এবং কলম দিয়ে ব্লু হোয়েল গেম সম্পর্কে অনেক কিছু লেখা রয়েছে। তাই এ গেম খেলে সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত পার্থর শিক্ষক দিলীপ বিশ্বাস জানান, রাফিকুল ইসলাম পার্থ মোটামুটি ছাত্র ছিল। সে অনেক শান্ত প্রকৃতির ছেলে। শিক্ষকদের সব সময় সম্মান দিয়ে কথা বলতো। তবে সম্প্রতি সে পড়াশোনায় অনেক অমনোযোগী হয়ে পড়ে।

নিহতের চাচাতো ভাই ইলিয়াস তালুকদার বলেন, সে বেশি মানুষের সাথে মেলামেশা করতো না। বেশিরভাগ সময় ঘরের মধ্যেই কাটাতো। সম্প্রতি সে পড়াশোনায় খুব অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তার স্কুলের শিক্ষকরা বিষয়টি আমাকে জানান। আমি তার পরিবারকে বিষয়টা জানাই।

কাশিয়ানী রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. শামীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রামদিয়া বাজার এলাকার একটি ৫তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি রুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের সুরতহাল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহতের বাম হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি মাছ আঁকা ও এফ-৫৭ লেখা এবং বুকে ক্রস চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- ওই ছাত্র ‘ব্লু হোয়েল’ গেম খেলে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এমবি