‘বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার : বর্তমান প্রেক্ষিত ও উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে সংগঠনটি। গত ১২ জুলাই ওয়াসার দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

ওয়াসা সম্পর্কে টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় দীর্ঘ এক মাস পর গত সোমবার ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ওয়াসা কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় টিআইবি এবং বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন) গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন।

ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ওয়াসার এ অভিযোগ তথ্যনির্ভর নয় বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) রিজওয়ান-উল-আলম স্বাক্ষরিত মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবি ‘বাস্তবতা বিবর্জিত কনটেক্সটে’র ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে ওয়াসা যে মন্তব্য করেছে তা যথার্থ নয়। গবেষণায় পানি খাতের ২৯টি সরকারি নথি পর্যালোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ম্যাপিংসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে।

পানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইনস্টিটিউশনাল ম্যাপিং সংক্রান্ত মূল্যায়নধর্মী পর্যবেক্ষণ টিআইবির প্রতিবেদনে সন্নিবেশিত আছে। তাই ‘টিআইবি নির্বিচার পদ্ধতিতে স্টেকহোল্ডার নির্বাচন করেছে এবং বেসরকারি স্টেকহোল্ডারের মধ্যে কাদের সঙ্গে কথা বলেছে তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত’ বলে ঢাকা ওয়াসার লিখিত বক্তব্য অবশ্যই অযৌক্তিক।

‘ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক নেতা ও দালালদের হস্তক্ষেপ নেই’, ওয়াসার এ বক্তব্য সম্পর্কে টিআইবি বলে- প্রতিবেদনের ৩৯ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত সংশ্লিষ্ট তথ্যটি ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদন ‘বিজ্ঞান সম্মত’ নয়, ‘ভিত্তিহীন স্টোরি’, ‘দালিলিক প্রমাণাদি নেই’ ঢাকা ওয়াসার উত্থাপিত এ বক্তব্য সম্পর্কে টিআইবি বলে, টিআইবি তার গবেষণা পদ্ধতির মান, তথ্যের যথার্থতা, সঠিকতা সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল।

টিআইবির অবস্থান তুলে ধরে আরও বলা হয়, কোন প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা নয় বরং বাংলাদেশে পানি খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সততা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আলোচ্য গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। টিআইবি মনে করে কৌশলগত ও ব্যবহারিক পর্যায়ে সুশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্র- যেমন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনঅংশগ্রহণ, ন্যায্যতা এবং সকলকে অন্তর্ভুক্তিকরণের মত বিষয়গুলোতে আরো অগ্রগতি অর্জিত হলে তা ঢাকা নগরবাসীর জন্য অধিকতর কার্যকর পানি সরবরাহ প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য ওয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি এ সম্পর্কে টিআইবির বক্তব্য হল : প্রতিবেদন প্রণয়নকালে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও গবেষকগণ যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি গবেষকদের কিছু রিপোর্ট এবং নথিপত্র প্রদান করেন।

প্রথম খসড়া প্রতিবেদনটি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয় ১২ মার্চ ২০১৫। ১৫ মার্চ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক, উপ-নির্বাহী পরিচালক এবং বাউইন প্রকল্পের সমন্বয়কারী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওয়াসাকে ১৪ জুন প্রতিবেদনটি পাঠানোর পর ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে পুরো প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়। সুতরাং ঢাকা ওয়াসার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য সঠিক নয়।

টিআইবি ঢাকা ওয়াসার পর্যবেক্ষণ ও অভিমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতিবেদনটি প্রত্যাখান করার পরও টিআইবির সঙ্গে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, টিআইবি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের ওই অবস্থানকে স্বাগত জানায়।

এএইচ