তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে রংপুর-তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রোডমার্চ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১১টায় এ রোডমার্চ রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে।

এ সময় প্রধান বক্তা হিসেবে শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘সকল আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতি লংঘন করে ভারত উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তাকে শুকিয়ে মারছে।

গত তিন বছরে ৩ জেলার ১২ উপজেলার কৃষক-ক্ষেতমজুর ও কৃষি জমি চরম বিপর্যয়ের মুখে। হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও মাঝি পরিবার বেকার কৃষক-জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব মতে তিস্তায় এক সময় শুষ্ক মৌসুমে ১৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। ভারতের (গজলডোবা ব্যারেজ) পানি প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ অংশে তা কমে ৪ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। খরা মৌসুমে তা ২৫০-৩০০ কিউসেকে নেমে এসেছে।’

শুভ্রাংশু চক্রবর্তী জানান, বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী ও বগুড়া জেলার সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৯৩ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্প চালু হয়। যার সেচ লক্ষ্যমাত্রা ৭,৫০,০০০ হেক্টর হলেও সেচ সুবিধা দেওয়া যেত ১,১১,৪৬০ হেক্টর জমিতে।

ভারতের কাছে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ব্যর্থতার এমন ভয়াবহ পরিণতি। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ রোডমার্চে বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর জেলা শাখার সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জয়পুরহাট জেলা সমন্বয়ক ওবায়দুল্লাহ মুসা, গাইবান্ধা জেলা আহবায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলম মিঠু, দলের রংপুর জেলা কমিটির সদস্য পলাশ কান্তি নাগ।

এমকে