বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্টে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারি ও ভাংচুরে ৫ কাস্টমস অফিসার আহত হওয়ার ঘটনায় ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর শরীফকে ক্লোজড করে খুলনা ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হযেছে।

এ ঘটনায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট পুলিশ ইমিগ্রেশানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি-২ মো. মাসুম কাজী আজ (মঙ্গলবার) ক্লোজড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখানে পোষ্টিং দেয়া হতে পারে ইয়াসিন আরাফাত নামে একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ওসি’সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

গত ২০ ডিসেম্বর ভারত থেকে আসা ২ জন পাসপোর্ট যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশী ছাড়া কাস্টমস তল্লাশী কেন্দ্র পার করার সময় কাস্টমস বাধা দিলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সাথে কর্মরত কাষ্টমস কর্মকর্তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কাস্টমস অফিসারের কক্ষ ভাংচুর ও ৫ জন কাষ্টমস কর্তকর্তা আহত হয়।

আহতদের মধ্যে ছিল- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাঙ্গালী, রাশেদুর রহমান রাশেদ, রাজস্ব কর্মকর্তা সুভাশীষ মোদক ও সিপাহী ইমরান হোসেন।

ঘটনার পর দিন থেকে সারা বাংলাদেশে কাস্টমস কর্মকর্তারা আন্দোলন শুরু করে। বেনাপোল কাষ্টমস হাউসের অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’সহ আরও কয়েকটি সংগঠন ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি ওমর শরীফকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষাভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, কর্মবিরতি, মানব বন্ধন ও কালো ব্যাজ ধারন করে। তারই ধারাবাহিকতায় কাস্টমস অফিসার্স এ্যাসোশিয়েশন আমরন কর্মসূচীর ঘোষনা দেয়। কর্মসূচীর আগেই ওসি ওমর শরীফকে ক্লোজড করে নেয়া হয়।

কাস্টমস কর্তপক্ষ ইতিমধ্যে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অফিস চত্বরে বহিরাগত দালালদের প্রবেশের ওপর বিধি নিষেধ জারি করেছে। ফলে দালালরা এখন আর আগের মত কাস্টমস কম্পাউন্ডে অবাধে প্রবেশ করতে পারছে না। কাস্টমস এর এ ধরনের উদ্যোগকে সাধারন মানুষ স্বাগত জানিয়েছে।  

যশোরের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার ইমরান মেহেদী সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওসি ওমর শরীফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কাস্টমস অফিসার্স এ্যাসোশিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মামুন সাহেব জানান, মারমারির ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজে সব প্রমান পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে পুলিশই কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের এটি একটি অত্যন্ত প্রসংশণীয় উদ্যোগ। আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই। পুলিশের এ ধরনের ইতিবাচক ভূমিকায় গোটা পুলিশ বিভাগের ভাবমুর্তি উজ্জল করেছে। এ দ্বাড়া, প্রমানিত হলো সরকার হোল অব দি গভার্নমেন্ট পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে।

নাছির/এমবি