নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের প্রাক্তন ভবনের জমি দখল ও শহীদ মিনার ভেঙ্গে নিজ নিজ মালিকানাধীন ভবন নিমার্নের পাঁয়তারা করছেন এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগিরা।
এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ইউপি চেয়ারম্যান মো.আলাউদ্দিন চৌধুরী জমি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সরকারী জমি দখলকারী নড়াগাতী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ইউপি কার্যালয়ের জমি বেদখল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বলে ইউনিয়নবাসীর একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জয়নগর ইউপি কার্যালয়ের পুরাতন ভবনটি রহস্যজনক ভাবে গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে নড়াগাতী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আলম মোল্যা ভেঙ্গে নিয়ে গেছেন।
এরপর সরকারী দলের প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি আলম মোল্যার নেতৃত্বে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা বাকাদ্দেস মোল্যা, বাহারুল চৌধুরী ও রহমত মোল্যাসহ তার স্থানীয় দলের ১২জন লোক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে বন্ধোবস্ত নিয়েছেন বলে তারা দাবী করেন।
অন্যদিকে,প্রাক্তন ইউপি কার্যালয়ের স্থানের জমিতে অস্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য অনুমতি চেয়ে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী জেলা প্রশাসক বরাবর ১১ডিসেম্বর একটি আবেদন করেছেন।
কিন্তু তারপরও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা বলে ওই ইউপি’র চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন।বর্তমান ওই ইউনিয়ন পরিষদের কোন কার্যালয় না থাকায় ইউপি বাসীর কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এবিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন মাথাব্যাথা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। যেকারণে ওই জমি জবর-দখলকে কেন্দ্র করে দখলদার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় আ’লীগ নেতা জাহান চৌধুরীসহ সচেতন এলাকাবাসী প্রতিকারের আশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাশাপাশি ওই সকল ভূমি দস্যুরা নড়াগাতী থানা সদরের একমাত্র শহীদ মিনার পূর্ণাঙ্গভাবে ভেঙ্গে ভবন (দোকানঘর) নির্মান করার পাঁয়তারা করছেন বলে একাধিক সুত্র থেকে জানা গেছে। ভূমি দস্যুরা যাতে ওই শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলতে না পারে সেজন্য স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন । নড়াগাতী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আলম মোল্যা।
এপ্রসঙ্গে বলেন,‘ওই জমি সরকারী ভিপি সম্পত্তি হওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের দপ্তর থেকে আমিসহ আমার ১২জন লোক ইজারা বন্ধোবস্ত নিয়ে জমির মালিক হয়েছি।বিধায় উক্ত স্থানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে (দোকারঘর)ভবন নির্মানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে’।
এ বিষয় কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কামরুল ইসলাম বলেন,‘বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে তদন্ত চলছে। কাগজপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাতে পারবো’।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দখলকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনগণ মনে করেন,বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
উজ্জল রায়/এআই





