নব্য-উদারবাদ সুবিধা বঞ্চিতদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাঙলার পাঠশালা’আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নব্য-উদারবাদ’শীর্ষক সেমিনারের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নব্য-উদারবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি’শীর্ষক ওই অধিবেশনে আলোচক ছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশের সভাপতিত্বে বিকালের ওই অধিবেশনে ৪টি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রতন খাসনবীশ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন, ভারতের ‘র‌্যাডিক্যাল নোটস’পত্রিকার সম্পাদনা বোর্ডের সদস্য পথিক ঘোষ ও সুচিক্কন দাস। আরও আলোচনা করেন প্রবীণ রাজনীতিক ড. অজয় রায় ও ঢাবি অধ্যাপক মেসবাহ কামাল।

ড. কামাল হোসেন বলেন, বিশ্বায়নের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে অগ্রগতি অর্জন করবে এটি আশা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নব্য-উদারবাদের ফলে উপরতলার মানুষের অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই; কিন্তু যারা দরিদ্র বা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীর ছিল, তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, টেকসই উন্নয়নের পক্ষের লোকেরা শুরু থেকে নব্য-উদারবাদের অগ্রগতির বিষয়ে সন্দিহান ছিল। নব্য-উদারবাদের ফলে বাজারে ডিরেগুলেশন (সরকারের নিয়ন্ত্রণ উঠিয়ে দেওয়া) করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটি তেমনভাবে কাজ দেয়নি। মন্দা থেকে মুক্ত হওয়া যায়নি।

গতকাল প্রথম দিনে মোট ৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে অধ্যাপক এমএম আকাশ ‘নব্য-উদারতাবাদ কি ও দক্ষিণ এশিয়ায় নব্য উদারতা বাদের ঐতিহাসিক পটভূমি’শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি বলেন, নব্য উদারতাবাদ দেশের ভেতরে যেমন আয় ও সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে তেমনি সারা বিশ্বে এক ধরনের অসম বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ারও জন্ম দিয়েছে। এই বৈশ্বিক অসমতার উৎস হচ্ছে পুঁজি এবং পণ্যের ক্ষেত্রে একপেশে মুক্ত বাজার অর্থনীতির অনুসরণ, কিন্তু শ্রমের সচলতার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে। এই অবস্থায় পুঁজিপতিরা শ্রমিকের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে সর্বদাই অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যায়।

অধ্যাপক এম মোফাখ্খারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে আরও দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বপন আদনান ও সুদেষ্ণা চক্রবর্তী।

‘নব্য-উদারবাদের পরিবেশের সংকট’শীর্ষক দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে অধ্যাপক কেএএম সা’দ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. খন্দকার আযহারুল হক, শেখ তৌহিদুল ইসলাম ও বিকাশ আনসারি।

সর্বশেষ ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘নব্য উদারবাদ: ভাষা, শিক্ষা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য ও মূল্যবোধের সংকট’শীর্ষক পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাকির তালুকদার, ড. ফাহমিদুল হক, ড. মোহাম্মদ আজম, মামুন আল রাশীদ ও কথা সাহিত্যিক অদিতি ফাল্গুনী।

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ