রাজধানীর মিরপুর-১ এর কল্যাণপুর এলাকায় ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে  সাদিয়া আত্মহত্যা করেনি বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সাদিয়াকে ৭ তলার ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে।
তবে নিহতের স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাদিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ। সে প্রায়ই আত্মহত্যার চেষ্টা করতো। সেজন্য ছাদের গেটে তালাও ঝুলানো হয়েছে। তবে কিভাবে সাদিয়া ছাদের উপরে উঠতে পারলো এমন প্রশ্নে জবাব দিতে পারেননি তারা।
সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও নিহতের পরিবারের পাল্টা দাবিতে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের নাম জানাতে পারেনি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন কারণ উল্লেখ করায় রহস্য আরও ঘনিভূত হয়েছে।
বুধবার সকাল ৬টায় কল্যাণপুরের ২ নম্বর লাইনের ১৬ নম্বর বাসার ৭ তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক এ ঘটনায় শাহনাজ বেগমসহ চারজনকে আটক করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। বিষষটি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ।
ঘটনার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় কল্যাণপুরের ২ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাসার ৭ তলার ভবনটি। ভবনের নিচেই গেট বরাবর অনেকখানি জায়গা জুড়ে রক্তের দাগ লেগে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার খবর শুনে সেখানে ভীড় জমেছে আশপাশ থেকে আসা লোকজনের কারণে। জটলার মধ্যে এক নারী অপর এক নারীকে সামনের একটি ভবন দেখিয়ে বলেন, ওখাইনকার ৬ তলা থাইক্কা একজন লোক নাকি দ্যাখছে নিচে পইড়া যাইতে।
একথা শোনার পর ১৬ নম্বর বাসার ঠিক সামনে বাম পাশের ওই ভবনের ৬ তলায় যান এই প্রতিবেদক। দড়জায় কড়া নাড়তেই বেড়িয়ে আসেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী। নিচে নামতে নামতে অনেক কথা হয়।
তিনি জানান, প্রত্যেক দিনের মতো আজও ফজরের নামাজ পড়ে বেলকুনিতে দাড়াই। এদিক সেদিক তাকাতেই ১৬ নম্বর বাসার ঠিক ৭ তলার রাস্তার ধারের পাশ থেকে একজনরে পড়ে যেতে দেখি। দেখা মাত্র আমি উপর থেকেই চিৎকার শুরু করি। পড়ে আশপাশ থেকে লোকজন চলে আসে।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, উপর থেকে ওই নারীর পড়ার ২/৩ মিনিট পর ওই ভবনের ৭ তলায় এক নারীরে উকি-ঝুঁকি করতে দেখি। নিচে নামার পর শুনি উপর থেকে পড়ে যাওয়া ওই নারীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্যে উপর থেকে ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে আটক হওয়ার আগে শাহনাজ বেগম জানান, ১৬ বছর আগে সাদিয়াকে সায়েদাবাদ থেকে তিনি কুড়িয়ে পান। তিনি বড় হলে তার ছেলে বাদশার সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে দেন। তবে কী কারণে আর কীভাবে সাদিয়া ছাদ থেকে পড়ে যায়, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
শাহনাজ বেগমের মেয়ে লিনা আক্তার জানান, ভাবি’র (সাদিয়া) একমাত্র ছেলে একইভাবে উপর থেকে পড়ে মারা যায়। এরপর থেকে ভাবি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। প্রায়ই তিনি উপর থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। সেজন্য ছাদের গেটে প্রায় সময় তালা ঝুলানো থাকে। তবে আজ সকালে কিভাবে সাদিয়া উপরের ছাদে উঠতে পারলো এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেনি তিনি।
ওই ভবনের কেয়ারটেকার মিলন জানান, ঘটনার সময় আমি আমার নিচের ওয়েটিং রুমে বসে ছিলাম। ধুপ করে কিছু পড়ার বিকট শব্দ শোনার পর বাইরে গিয়ে দেখি সাদিয়া ভাবি কাতরাচ্ছে। পরে পরিবারের সদস্যদের ডাকা হলে তারা দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
তিনি আরও জানান, সাদিয়া ভাবির স্বামী বাদশা ভাই বিদেশ থাকেন। তাদের একমাত্র বাচ্চা ছেলে কিছু আগে একইভাবে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় বলেও জানান কেয়ারটেকার তিনি।
এব্যাপারে মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই বিলহানা জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসবাদ করেছেন এসআই আবুল খায়ের। রাতে ডিউটিতে থাকায় তিনি এখন ছুটিতে আছেন। ওসি স্যার বাইরে আছেন। আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। পরে আসেন জানতে পারবেন।
এব্যাপারে মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ টাইম নিউজবিডিকে জানান, এসআই (তদন্ত) আবুল খায়ের এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেননি। বিকালের মধ্যে সব তথ্য পাবো। তবে তিনি জানান, এসআই আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, আটককৃতরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান ওসি।
[b]ঢাকা, জেইউ, ৫ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // এআর[/b]