সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে সিলেট নগরী। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে নিজের গুলিতেই এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) রায়ের পর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিএনপিও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয়। নাশকতা এড়াতে অ্যাকশনে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে দুপুর পর্যন্ত সিলেট জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে বিএনপি-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ৬৬ নেতাকর্মীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অতিক্রম করে বিকাল ৩টার দিকে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিএনপিও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে। এসময় কোর্ট পয়েন্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় নিজের বন্দুকের গুলিতে শামীম আহমদ নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এএসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, জেলায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্তক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, নগরী থেকে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এই মামলায় শুনানির পর বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বাকি পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

এমবি