টানা ২১দিন অবরোধের কবলে পড়ে এখন সর্বস্বান্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও এর আশপাশের এলাকা টমেটো চাষীরা। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না ট্রাক। ফলে শত শত মণ টমেটো পচে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের উঠানে আর ক্ষেতেই।

এদিকে কষ্টে ফলানো এসব টমেটো বিক্রি করতে না পেরে অবশেষে খাওয়ানো হচ্ছে গবাদি পশু আর হাঁস মুরগিকে। এতে তাদের ক্ষতির পরিমান কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবরোধের আগেও গোদাগাড়ীতে প্রতিমণ পাকা টমেটো ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পরিবহন সংকটের কারণে গোদাগাড়ীতে এখন আর টমেটো কিনছেন না ব্যবসায়ীরা।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ব্যবসায়ী ও পাইকাররাও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। ইতোমধ্যে অনেক টমেটো চাষী তাদের টমেটো ক্ষেতে হাল চাষ শুরু করেছেন।

ব্যবসায়ী জুনায়েদ বলেন, অবরোধের কারণে পরিবহন সংকটের কারণে টমেটো কেনার সাহস পাচ্ছেন না। বাজারে ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও তারা সরবরাহ করতে পারছেন না। চলতি মওসুমে শুধু তার আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তিনি।

টমেটো ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘পানির দামে টমেটো কিনেও বাড়তি ভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।’
তিনি জানান, অবরোধ-হরতালে গত দুই সপ্তাহে তার গচ্ছা গেছে প্রায় তিন লাখ টাকা।

টমেটো চাষী মতিউর রহমান জানান, তার বাড়ির উঠানে পড়ে আছে কমপক্ষে ৫০ মণ পাকা টমেটো। অথচ ক্রেতা নেই। প্রতিদিনই পচে নষ্ট হচ্ছে টমেটো।
টমেটো থাকা অবস্থায় তিন বিঘা জমিতে হাল চাষ করে দেয়া হয়েছে। তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে বলে বন্তব্যও করেন তিনি।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির বলেন, প্রতিদিনই পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবি পাহারায় পণ্যবাহী ট্রাক রাজশাহী পার করে দেয়া হচ্ছে। এরপরও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। পণ্যবাহী ট্রাক মধ্য শহর হয়ে মহাসড়কে পারাপারের জন্য ছয়টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি মওসুমে এ উপজেলায় দুই হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। প্রতিবছর এখানে টমেটোকেন্দ্রিক প্রায় চারশ’ কোটি টাকার কারবার হয়। তবে চলতি মওসুমে টানা অবরোধের কারণে সীমাহীন ক্ষতির মুখে পড়েছেন টমেটো চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
জেআই