বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল কেনার খরচ অর্ধেকে নেমে এলেও সার্বিকভাবে আমদানির পরিমাণ বাড়ায় গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯২ কোটি ( ৯ দশমিক ৯২ বিলিয়ন) ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট) হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত অর্থ বছর বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে চার হাজার ৬৮ কোটি ৫০ লাখ (৪০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এই অংক আগের বছরের (২০১৩-১৪) চেয়ে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
এর বিপরীতে বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে তিন হাজার ৭৬ কোটি ৮০ লাখ (৩০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৬৭৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১২-১৩ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ৭০১ কোটি এবং ৯৩২ কোটি ডলার।
পণ্য বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছিল ২০১০-১১ অর্থবছরে, ৯৯৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
২০১৪-১৫ সালে সেবা খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, পণ্য আমদানির জন্য তার চেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা ব্যয় করতে হয় বলে প্রতিবছর এ ঘাটতি দেখা দেয়।
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ১৬৪ কোটি ডলার
সেবা ও পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) ১৬৫ কোটি (১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন) ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষ হয়েছে।
অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।
সাধারণভাবে চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।
এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
এতদিন বেশি দামে জ্বালানি তেল আমদানি করে কম দামে বিক্রি করার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে এ খাতে মোটা অংকের ভর্তুকি গুণতে হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতে থেকে মুনাফা করছে সরকার।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জ্বালানি তেলে বিক্রি করে বিপিসি লাভ করছে।
এএইচ





