পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামে শরীরে দেওয়া স্যালাইন ব্যাগে বিষ মিশিয়ে অভিনব কায়দায় গর্ভবতী স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুনকে (২৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।
সোমবার বিকেলে নিহত গৃহবধূর লাশের ময়নাতদন্ত পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত আঞ্জুয়ারা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের আব্দুল করিম কামারের মেয়ে। ঘাতক স্বামী খাইরুল ইসলাম জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিন শেখের ছেলে।
নিহতের ভাই রওশন কামার অভিযোগ করে বলেন, বোন আঞ্জুয়ারাকে ১০ বছর আগে খাইরুলের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাই খাইরুল তার বোনকে নানা অজুহাত দেখিয়ে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।
রওশন বলেন, গত রোববার সকালে জামাই খাইরুল স্ত্রী আঞ্জুয়ারা অসুস্থ এমন কথা বলে স্থানীয় বাজার থেকে গ্রাম্য এক ডাক্তারকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পূর্ব থেকে আনা বিষ মেশানো স্যালাইন ওই ডাক্তারের সহায়তায় বোনের শরীরে পুশ করে বাড়ি থেকে ডাক্তারকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। ৫ মিনিট স্যালাইন শরীরে ঢোকার সাথে সাথেই তার বোন বিষাক্রান্ত হয়ে অস্থির হয়ে উঠে। গুরুতর অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার বোনের ১০ বছরের একটি ছেলে আছে এবং ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের শেষে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
এ ব্যাপারে নিহতের ভাই রওশন কামার বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাদের অভিযোগ একটি প্রভাবশালী মহল মামলা না দেয়ার জন্য তাদেরকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এদিকে গর্ভবতী মহিলা হত্যার খবরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি ঘাতক স্বামীর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) জালাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাকিবুল/এমএজেড





