রাজধানীর মগবাজারের টিঅ্যান্ডটি কলোনির আইপিএস কারখানার মালিক আহাদকে খুন করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু আহাদকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা কারখানার আনসার সদস্য আব্দুল আলিম খুন করে চলে যায়।
আনসার সদস্য আলিম সম্ভবত খুনীদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছিল। পরবর্তিতে যাতে কোনো ঝামেলা না হয় সেজন্যই আব্দুল আলিমকে খুন করে সন্ত্রাসীরা চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, আলিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। আলীমের বুকে, বাম হাতে ও গলায় গুলির ক্ষত চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছে রমনা থানা পুলিশ।
বুধবার দিনগত গভীর রাতে রাজধানীর মগবাজারে ওয়ারল্যাস টিঅ্যান্ডটি কলোনির সামনে দায়িত্ব পালনকালে খুন হন আনসার সদস্য আব্দুল আলিম(২৮)। আবদুল আলীম গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা থানায়। তাঁর বাবার নাম মির্জা ফকির বলে জানা গেছে।
রমনা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাতের ঘটনায় সুরতহাল আর ময়না তদন্তের কাজে ব্যস্ততার কারণে এখনো তদন্তের কাজ শুরু করতে পারেন নি তারা।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রমনা থানার উপপরিদর্শক কামরুল হাসান টাইম নিউজ বিডি’কে জানান, বুধবার দিনগত রাত ১টার দিকে দুইটি রিকসায় করে পাঁচ/ছয় জন যুবক টিঅ্যান্ডটি কলোনির সামনে আসে। তারা অতর্কিতে আনসার সদস্য আব্দুল আলীমকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হলে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকি‍ৎসক আলীমকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সুরতহাল শেষে আব্দুল আলীমের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ময়না তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই তদন্ত কাজ শুরু করা হবে।
তবে সুরতহাল রিপোর্টে তার গলার ডান অংশ, ডান বুক ও বাম হাতের গোড়ায় তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলেও জানান এসআই কামরুল হাসান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মগবজারের বিটিসিএল কলোনিতে রাতে দু’জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
গত রাতে গুলির শব্দ শুনে আইপিএস কারখানার গেটের সামনে এসে আব্দুল আলীমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে এসময় অপর আনসার সদস্যকে দেখা যায়নি।
আলিমের পরিচিত মোস্তফা নামে এক বাসিন্দা জানান, আনসার সদস্যদের সাথে সন্ত্রাসীদের কিভাবে শত্রুতা হবে? এখানে অন্য কোনো বিষয় অবশ্যই রয়েছে। কোম্পানীর অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়ে থাকতে পারেন নিরাপরাধ আলিম।
মজিবর রহমানে এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেন, দুর্বৃত্তরা প্রথমে হেলমেট পড়ে এসে আহাদ নামে একজনের খোঁজ করতে থাকেন। এসময় এক আনসার সদস্যের সাথে সন্ত্রাসীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আহাদের লোকেশন জানাতে না চাওয়ায় আনসার সদস্যকে গুলি করে চলে যায় তারা।
আইপিএস কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আইপিএস কারখানার মালিক আহাদের খোঁজে টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে প্রবেশ করতে চেয়ে ছিলেন রমিজ নামে এক ব্যক্তি। রমিজ ছিলেন আহাদের ব্যবসায়িক পার্টানার। সপ্তাহ খানেক আগে আহাদের সাথে বাক-বিতন্ডা হয় রমিজের। এর জের ধরে আহাদকে খুন করতে এসেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু আহাদকে না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় আসনার সদস্য আলিমের সাথে দেখা হয় সন্ত্রাসীদের। আলিম কয়েকজনকে চিনতে পারায় তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে সন্ত্রাসীরা।
এব্যাপারে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান টাইম নিউজ বিডিকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা আলীমকে হত্যা করতে আসেনি। তারা কোম্পানির অন্যতম মালিক আহাদকে খুন করতে এসেছিল। মহল্লাবাসী ও কোম্পানীর একাধিক সূত্রের বক্তব্যে তেমনটি ধারণা করা হচ্ছে।
এঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে ওসি জানান, নিহতের ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা, জেইউ, ২০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ