নগরীতে দিনের বেলায় হকার ফুটপাতে বসতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে চসিক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে হকার নীতিমালাও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে চসিক।
চসিকের নীতিমালায় কোনো হকার উচ্ছেদ না করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফুটপাতে বসে ব্যবসা করার কথা বলা হয়েছে। হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী হকাররা ফুটপাতের তিন ভাগের এক ভাগ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবে। ভ্যান নিয়ে এসে নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে হবে হকারদের।
কাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হকার্স লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ বিষয়ে বৈঠক করবেন।
বৈঠকে সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে দিনের বেলা নগর হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে মেয়র কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবেন বলে জানা গেছে। হকারদের এক মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়ে আগামী মার্চ মাস থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চান মেয়র।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি ফুটপাত এখন ভাসমান হকারদের দখলে। ফুটপাতের পাশাপাশি তারা এখন রাস্তাও গিলে খাচ্ছে। এছাড়া যাদের দোকান আছে, তারাও ফুটপাত দখলে রেখেছেন। যদি এ ব্যাপারে চসিক থেকে কোনো নির্দেশনার কথা এখনও বলা হয়নি।
চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার ফেডারেশনের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে হকার রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। এদের নিয়ন্ত্রণ করে তিনটি সংগঠন। এগুলো হল ‘চট্টগ্রাম হকার্স লীগ’, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার সমিতি’ ও ‘চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার সমিতি’। এ তিনটি সংগঠন মিলে চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার ফেডারেশন। এসব সংগঠনের বাইরেও রয়েছে আরও ৬ থেকে ৭ হাজার ভাসমান হকার।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে প্রায় ২৫টি প্রধান সড়ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬টি সড়কে ফুটপাত এখনও তৈরি হয়নি। নগরীতে পাকা সড়ক রয়েছে ৪২৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সড়কে ফুটপাত নেই। বাকি সড়কের উভয় পাশ মিলে ফুটপাত রয়েছে ৫৫৬ কিলোমিটার। যার অধিকাংশই হকারদের দখলে।
জানা যায়, নগর ভবনে সিভিল সোসাইটি কো-অর্ডিনেশন কমিটির পঞ্চম সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিষয়টি আলোচনায় আনেন। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ভিডিও জরিপ শেষ হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজ দেখে ফুটপাত থেকে অবৈধ স’াপনা অপসারণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন, যানজট নিরসন ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাতের অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চসিকের সিদ্ধান্ত হকার নেতৃবৃন্দরা মেনে নেবেন কিনা জানতে চাইলে নিজের কোন ব্যর্থতা নেই উল্লেখ করে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘না মানার কোনো কারণ নেই। না মেনে যাবে কোথায়? আমার কোনো ব্যর্থতা নেই। কালকের (বুধবার) বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
এদিকে হকার্স নেতৃবৃন্দ জানান, উচ্ছেদের আগে হকার্সদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসনের বিষয় হিসেবে হলিডে মার্কেটও চালু করা যেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নগরীর কম ব্যস্ত রাস্তাও।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগরী পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য গতকাল সোমবার রাতে সুপ্রভাতকে টেলিফোনে বলেন, ‘এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত মেয়র নিয়ে থাকলে সে ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করবো।’
বিভিন্ন মহলের অভিমত, গ্রামীণ জীবনের উন্নয়নের সুবাদে এখন গ্রামেও বাণিজ্য সুবিধা বিস্তৃত হয়েছে। অধিক মুনাফার জন্য শহরমুখি মানসিকতাও ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আজকে উচ্ছেদ হলে কাল আবার পূর্বের রূপ ধারণ করবে। ক্রমবর্ধমান গাড়ি ও মানুষের চাপে এ নগর বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
 
মাসুম/নাজিব