দুই দশক কাজ করার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি)।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার পর এটি সার্কের অধীনে পরিচালিত আরও তিনটি দেশের একই ধরনের কেন্দ্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে ‘সার্ক এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এসইডিএমসি) নামে আত্মপ্রকাশ করবে।
সার্ক সচিবালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভারতের সার্ক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এসডিএমসি), মালদ্বীপের সার্ক কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এসসিজেডএমসি), ভুটানের সার্ক ফরেস্ট্রি সেন্টার (এসএফসি) ও বাংলাদেশের এসএমআরসি একীভূত হবে।
এমইডিএমসির সঙ্গে একীভূত হলে এসএমআরসি ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি থাকবে না বলেও এতে জানানো হয়েছে।
এমএসআরসির পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, এসএমআরসি বন্ধের কার্যক্রম এ মাস থেকেই শুরু হয়েছে। এখন চলছে হিসাব-নিকাশ গোছানোর কাজ।
“৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে স্থাপিত আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে ২০ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় দলিল বুঝে নিতে সার্ক সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ঢাকা আসবেন।
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিয়েই চাকরিচ্যুত করার বিষয়টিকে ‘অমানবিক’ বলছেন বর্তমান কর্মীরা।
এসএমআরসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা নাজলী ফেরদৌসী বলেন, “যে সামান্য ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব রয়েছে তাতে আমাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অন্য যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ কেন্দ্রের গবেষকরা জানান, চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে সার্কের শীর্ষ নেতা ও পররাষ্ট্র সচিবদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগী হলে নতুন কেন্দ্রটি বাংলাদেশে স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র হারানোর শঙ্কা থাকবে না।
তবে একীভূত হওয়া নতুন কেন্দ্রটি কোথায় হবে সে বিষয়ে সার্ক সচিবালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. শাহ আলম।
গবেষণা কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে হতাশা প্রকাশ করে সাবেক পরিচালকরা এর মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখন দেশে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও এসএমআরসির সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশে এ ধরনের কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া দুঃখজনক। যে দক্ষ জনবল ও অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে, তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে এখন।”
আরেক সাবেক পরিচালক সুজিত কুমার দেব শর্মা মনে করেন, যে উদ্দেশ্যে এসএমআরসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল দুই দশকে তা অর্জিত হয়েছে।
“সার্কের সর্বোচ্চ ফোরামে এ কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন যে ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ হয়েছে, আবহাওয়া বিষয়ে হাইটেক শিখেছে বাংলাদেশ, তা ধরে রাখতে হবে।”
১৯৯৫ সালের ২ জানুয়ারি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর এসএমআরসি থেকে এ পর্যন্ত ৬৮টি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন ও ৮৬টি প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এএইচ





