ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় (ঢাকায় ঢোকার পথে) সড়কে নগর শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এতে বছরে এ খাত থেকে তিনশ’ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হবে। এ টাকা সড়ক উন্নয়ন ও মেরামতের কাজে ব্যয় করা হবে। নগর শুল্ক চালু করতে দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

৮ জুলাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে শীঘ্রই নগর শুল্ক চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক মো. ফারুক জলিল। একই সাথে নগর শুল্ক চালুর জন্য প্রতি সিটি কর্পোরেশনে এ খাত থেকে থোক বরাদ্দ ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ শ’ কোটি টাকা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মো. ফারুক জলিল বলেন, গত শতকের ৮০‘র দশকে নগর সিটি কর্পোরেশনে (সাবেক মিউনিসিপ্যাল) নগর শুল্ক প্রথা চালু ছিল। নগর শুল্ক চালু হলে যানবাহন প্রবেশ ফি থেকে প্রতি সিটি কর্পোরেশন প্রতিবছর দেড় থেকে দুই শতাধিক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে।

তিনি বলেন, সারাদেশের মোট যানবাহনের অধিকাংশ ঢাকার ওপর দিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনের ভারি কার্গো, লরি। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য বহনের ফলে শহরের সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এসব সড়ক মেরামতে সিটি কর্পোরেশনের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।

ফারুক জলিল অভিযোগ করে বলেন, বিআরটিএ সড়ক ব্যবহার ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য কর (ট্যাক্স) আদায় করলেও সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়া হয় না। এজন্য দ্রুতই নগর শুল্ক চালানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

১০ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটেও নগর শুল্ক চালু করতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসক মো. জলিল ফারুক সাংবাদিকদের জানান,‘ উন্নত দেশে নগর শুল্ক চালু আছে। ঢাকায় যে পরিমাণে ভারি যানবাহন চলাচল করে তাতে অল্প দিনেই সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। তাই নগর শুল্ক চালু করতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন,‘ নগর শুল্ক চালু করলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্তের মাধ্যমে ঢাকার মধ্যে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। সড়কে অযথা স্ট্যান্ড গড়ে উঠবে না।’

ডিএনসিসি প্রধান নির্বাহী বিএম এনামুল হক জানান,‘ মান সম্পন্ন সড়ক আমরা দিতে পারি না। এত বেশি ভারি যানবাহন চলাচল করে যে কোন ভাবেই সড়ক ঠিক রাখা সম্ভব নয়। নগর শুল্ক চালু করলে মান সম্পন্ন সড়ক আমরা দিতে পারবো।’

তিনি বলেন,‘ নগর শুল্ক প্রথা চালু করলে যানবাহন বিষয়ে সকল তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সরকারকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে ২০১৩ সালের ৭ জুলাই স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় সংসদে বলেছেন,‘ ডিসিসি এলাকায় নগর শুল্ক চালু করার বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। খুব শীঘ্রই নগর শুল্ক চালু করা হবে।’

তিনি আরও বলেছেন,‘ ভারি যানবাহন থেকে বছরে একশ’ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হবে। এ টাকা দিয়ে সড়কের উন্নয়ন করা হবে।’

জানা গেছে, নগরীর রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১৯৬১ সালে মিউনিসিপ্যাল কমিটি ১৯৬২ সাল হতে ঢাকা মহানগরীতে নগর শুল্ক প্রবর্তন করেন।

১৯৮১ সালে সরকার নগর শুল্ক প্রথা বাতিল করে। এ খাতের জন্য সরকার ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করর্পোরেশনকে নগর শুল্ক ক্ষতিপূরণ (অকট্রয়) হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করে। আরো জানা গেছে, সরকার ঢাকাসহ সারাদেশে উন্নত যোগাযোগের জন্য ইতোমধ্যে সড়কে কর (টোল) বসানোর ঘোষণা দিয়েছে।


ঢাকা, ২০ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//কেএ