বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী প্রশস্ত বনভূমি সুন্দরবনে বিরল প্রজাতির কচ্ছপের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা পালনের কাজ শুরু হয়েছে। আর এ উদ্যোগ নিয়েছে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের কর্তারা। কচ্ছপের প্রজাতির নাম ‘বাটাগুর বাসকা’। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশে তারা ‘সাদার্ন রিভার টোরাপিন’ বা ‘বাটাগুর অ্যাফিনিস’ নামেও জানে।

কিছু দিন আগে এর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল থাইল্যান্ড, মালশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতে। কিন্তু তা সংখ্যায় খুবই কম। বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই কচ্ছপের বংশ বৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বনকর্মীরা।

এবার ভারতও পিছিয়ে রইল না। তিন বছর ধরে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের উদ্যোগে সজনেখালির একটি বড় পুকুরে ১৫০টি এই প্রজাতির কচ্ছপ চাষ করা হয়। ডিমও পাড়ছে তারা। কচ্ছপগুলোর ‘ক্যাপটিভ ব্রিডিং’ করাতে পেরে খুশি দফতর।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ‘বাটাগুর বাসকা’ এক সময়ে বাংলাদেশ ও ওড়িশায় দেখতে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর দেখা মেলে না এদের। বেশ কয়েক বছর আগে দেশেই মৎস্যজীবীদের জালে ১১টি এই প্রজাতির কচ্ছপ ধরা পড়ে। ওই কচ্ছপগুলোকে নিয়ে ব্যাঘ্র প্রকল্পের কর্মীরা সজনেখালির পুকুরে ছেড়ে দেন। প্রথম বছরেই সেখানে তারা ৩৩টি ডিম পাড়ে। তা থেকে ৩৩টি বাচ্চাও হয়। এ ভাবে গত দু’বছরে ১১২টি বাচ্চা হয়। বাড়তে থাকে বংশ।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর সৌমিত্র দাশগুপ্ত বলেন, ‘নানা রকমের পরীক্ষা করার পরে এই কচ্ছপগুলোর ডিম ফোটানো সম্ভব হয়েছে। সজনেখালিতে যে কচ্ছপগুলিকে পালন করা হচ্ছে, তার একেকটির ওজন প্রায় দেড় কেজি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষে গভীর নদীতে কচ্ছপগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

দফতর সূত্রের খবর, কচ্ছপগুলো ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই প্রজাতির কচ্ছপগুলোর নাক সাধারণত অন্য কচ্ছপের নাকের তুলনায় একটু উঁচু। পিঠের খোলাগুলো দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো। এছাড়া, এদের সামনের পায়ে চারটি নখযুক্ত আঙুল রয়েছে।

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই