রাজধানীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাসহ বহিরাগতরা (অন্য দেশের নাগরিক)ভোটার হওয়ার জন্য অবস্থান করছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর যারা ভোটার হতে আগ্রহী তাদের তথ্য সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পরভোটার করার নিদের্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, গত মে মাসে প্রথম ধাপের ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরুর পর নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং করার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোহিঙ্গাসহ বহিরাগতরাচেষ্টা করেও ভোটার হতে পারেনি।
তাই শেষ সুযোগ হিসেবে তারা রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারীধারা, উত্তরা,ধানমন্ডি, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকাকে বেছে নিয়েছে। কারণ রাজধানীতে দেশের বিভিন্ন জেলার দেড় কোটি মানুষ বাস করে। এখানে এক এলাকার বাসিন্দা অন্য এলাকার বাসিন্দাদের চেনেনা। আর এ কারণে রোহিঙ্গা ও বহিরাগতরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোন মূল্যে ভোটার তালিকা ভুক্ত হওয়া। আর সুপারিশকারী হিসেবে অর্থ দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু অসাধু নাগরিককে ম্যানেজ করেছে। যারা ভোটার সংগ্রকারী সুপার ভাইজারদেরকে অনুরোধ করবে তারা তাদের আত্মিয়, কাজের লোক,দোকান কর্মচারী কিংবা পরিচিত।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটার হতে আগ্রহীদের পিতা/মাতার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের (জাতীয় পরিচয় পত্র) নম্বর ও স্থায়ী ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে ভোটার করার নির্দেশনা দিয়েছে।আর যারা এসব তথ্য দেখাতে ব্যর্থ হবে তাদের বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও তাদের অর্ন্তভুক্ত না করার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সরোয়ার মোর্শেদ বলেন, রাজধানীসহ দেশের ১২০টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে।এসব এলাকায় যারা ভোটার হতে আগ্রহী তাদের পিতা/মাতার আইডি কার্ড ও স্থায়ী ঠিকানা যাচাই বাছাই করে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর কারণ হচ্ছে রহিঙ্গা ও বহিরাগতরা যাতে ভোটার হতে না পারেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল কাদের বলেন, রাজধানীতে রোহিঙ্গাসহ বহিরাগতদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা ভোটারের পিতা-মাতার আইডি কার্ড যাচাই-বাছাই করে সে আলোকে কাজ করছি।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, রোহিঙ্গাসহ বহিরাগতরা যাতে রাজধানীতে ভোটার হতে না পারে সে জন্য ভোটার হতে আগ্রহীদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের মোট ১২০টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের কাজ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বর্তমানে ভোটার ৯কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার চার কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ জন এবং নারী ভোটার চার কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ জন। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার ধরে ভোটার বৃদ্ধি হবে ৪৬ লাখ। হালানাগাদ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর।
ঢাকা, এএম, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





