বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবসৃষ্ট স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।

মীর শাহে আলম বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না। জনগণ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, দলের সুনাম ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনে কঠোর হবেন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয়ের কারণে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

সুধী সমাবেশে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সব উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং কৃষকদের দেওয়া হবে কৃষক কার্ড। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্যও বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে বিএনপি।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দলটি ভোটের সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, ভোটের মৌসুম শেষ হলে জনগণের খোঁজ নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির তৎপরতা কমে যায়।

লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তেল-গ্যাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে মীর শাহে আলম বলেন, অতীতে যাদের ভোটের প্রয়োজন ছিল না, তারা জনগণের কাছে যেত না। কিন্তু বিএনপি জনগণের কাছে যাবে, তাঁদের কথা শুনবে এবং পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে মোকামতলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সুধী সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ময়লা পরিবহনের ভ্যানের উদ্বোধন করেন।

এস