কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

নির্দেশনা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একদিকে যেমন নেতাকর্মীদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে কমিটি নিয়ে এমন তালবাহানায় পদ-প্রত্যশী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আর ক্যাম্পাস কেন্দ্রীক কোন তৎপরতা না থাকায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটি।

জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর পরে গত ২৪ জুলাই ২০১৪ সালে ইমতিয়াজ আহমেদকে সভাপতি ও কামরুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী এক মাসের মধ্য কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরে পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কমিটি দিতে সক্ষম হয়নি তারা। এদিকে আংশিক কমিটি হওয়ার পরে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হওয়া দূরের কথা, উল্টো নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ-হতাশায় বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত দুই মাস আগে আমরা কেন্দ্রে একটা তালিকা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত তারা কমিটি ঘোষাণা করেননি। আমরা যতটুকুক জানি তা হলো রাবির কমিটিসহ দেশব্যাপী প্রায় ৩৫টি বিভিন্ন কমিটি এক সাথে ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল’।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে একরকম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন দলের কর্মঠ ও উদ্যমী নেতাকর্মীরা। ফলে নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, ‘কেন্দ্র থেকে দুইবছর আগে কমিটি দিলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিতে পারা বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের বড় ধরনের ব্যর্থতা। এতে করে নেতা-কর্মীদের হতাশা বেড়েই চলেছে। আর কমিটি না দেওয়ায় আমরা সুসংগঠিত হতে পারছি না। অনেকে বলেন, পড়া শুনা শেষ করছি, অথচ ছাত্রদলে এখনো পরিচয়হীন রয়েছি’।

অন্যদিকে রাজনীতির সুবিধার স্বার্থে ছাত্রদল ত্যাগ করে ছাত্রলীগে যোগদানেরও অভিযোগ রয়েছে একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতি করলেও এখন তারা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম সারির একজন নেতা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী ছাত্রলীগে যোগদানের কথা স্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের কোন ঘটনা আমার সময় হয়নি। তবে আমার কমিটির আগে কিছু স্বার্থবাদী কর্মী দল ত্যাগ করেছিল বলে জানি। কারও বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

এছাড়া নিষ্ক্রয়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুপ মনোভাবকে দায়ী করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী। তারা বলেন, ‘প্রশাসন শুধু মাত্র ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং করতে দেয়। আমাদের ক্যাম্পাসে কোন ধরণের কর্মসূচি পালন করা দুরে থাক ক্যম্পাসেই ঢুকতে দেয়না’।

বর্তমানে ক্যম্পাসে কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘বর্তমানে অবস্থা এমন যে ক্যম্পাসের কোথাও আমাদের দেখলেই বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করছে। কিছুদিন আগে শের-ই-বাংলা হলের আমাদের এক কর্মীকে পিটিয়েছে। সে এখনো ঢাকাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানান তিনি’।

সাংগঠনিক কার্যক্রম কিভাবে চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম বন্ধ এমনটা না, আসলে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আমাদের বিপক্ষে থাকায় একটু কৌশলে এগুতে হচ্ছে। তবে আমরা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে না পারলেও গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছি’।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০২ সালে মতিউর রহমানকে সভাপতি ও আসলামুদ্দৌলাকে সাধারণ সম্পাদক করে রাবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ২০০৫ সালের এপ্রিলে নূরুজ্জামান সরকার লিখনকে আহ্বায়ক করা হয়। এরপর ২০১০ সালের ২২ মে আরাফাত রেজা আশিককে আহ্বায়ক করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। অবশেষে ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই রাবি শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

এফএফ